চট্টগ্রামের উপকূলীয় উপজেলা আনোয়ারায় টানা বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এতে উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রামের কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। অনেক বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিঘ্নিত হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দিনের নেতৃত্বে পানিবন্দি পরিবারের ঘরে ঘরে গিয়ে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ধাপে ধাপে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পানিবন্দি পরিবারগুলোর পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া মানুষদের মধ্যেও শুকনা খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পূর্ব গহিরা, রায়পুর, সরেঙ্গা, বৈরাগ, বারখাইন, পরৈকোড়া ও বটতলী ইউনিয়নসহ উপজেলার অন্তত ৫০টির বেশি গ্রাম জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নিরাপত্তার জন্য ৫৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে এক হাজার ত্রাণ প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের জন্য ১১ জন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয় করছেন।
এদিকে, অব্যাহত বর্ষণের প্রভাবে শুধু আনোয়ারা নয়, চট্টগ্রাম নগরী ও আশপাশের বিভিন্ন উপজেলাতেও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দিনের অতি ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারের কারণে নিম্নাঞ্চলে দ্রুত পানি জমে গিয়ে জনজীবনে ব্যাপক দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দিন বলেন, “পানিবন্দী মানুষের কষ্ট লাঘবে উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে। আনোয়ারার কোনো অসহায় মানুষ যেন অনাহারে না থাকে, সেটিই আমাদের লক্ষ্য। যেখানে প্রয়োজন হবে, সেখানে ধারাবাহিকভাবে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষদের প্রয়োজনীয় সহায়তাও নিশ্চিত করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “পানি নেমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রস্তুত রয়েছেন।”
ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) উমা খান কাফি, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপক ত্রিপুরাসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা অংশ নেন। এছাড়া বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৪ ঘণ্টার একটি কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









