টানা পাঁচ দিনের বৈরী আবহাওয়া, ভারী বর্ষণ ও উত্তাল সাগরের প্রভাবে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার। সমুদ্রসৈকতজুড়ে বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা। পর্যটকের উপস্থিতি একেবারে কমে যাওয়ায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে হোটেল-রিসোর্ট মালিকরা পড়েছেন চরম আর্থিক সংকটে। ইতোমধ্যে জেলার পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টে প্রায় ৫০ হাজার পর্যটকের রুম বুকিং বাতিল হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, মাত্র চার-পাঁচ দিনের বৈরী আবহাওয়ায় কক্সবাজারের পর্যটন খাতে প্রায় ১০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী সৈকত ঘুরে দেখা যায়, টানা বৃষ্টিতে পুরো সৈকতজুড়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। হাতে গোনা কয়েকজন পর্যটক সৈকতে এলেও বৃষ্টি ও উত্তাল সাগরের কারণে তারা বেশিক্ষণ অবস্থান না করে দ্রুত হোটেলে ফিরে যাচ্ছেন। সৈকতসংলগ্ন অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। খোলা থাকা অল্প কয়েকটি দোকানেও নেই ক্রেতার আনাগোনা। ঝালমুড়ি, চটপটি, বিচ বাইক, কিটকট (চেয়ার-ছাতা), ঘোড়ায় চড়াসহ প্রায় সব ধরনের পর্যটননির্ভর ব্যবসা কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে।
কক্সবাজার হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান জানান, টানা বৈরী আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজার-ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা ও যানজটের কারণে বাস চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। গত পাঁচ দিনে জেলার পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টে প্রায় ৫০ হাজার পর্যটকের রুম বুকিং বাতিল হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার পর্যটক কক্সবাজারে অবস্থান করলেও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে তাদের অনেকেই নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরে যাচ্ছেন।
ঢাকার মিরপুর থেকে পরিবার নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটক দম্পতি জেসমিন বোখারি ও শাহরুখ বোখারি বলেন, কয়েক দিনের জন্য ঘুরতে এসেছিলাম। কিন্তু টানা বৃষ্টির কারণে হোটেল থেকেই বের হতে পারছিলাম না। পরিবারের সদস্যদের অনুরোধে কিছুক্ষণ আগে সৈকতে এলেও বৃষ্টির কারণে বেশিক্ষণ থাকা সম্ভব হয়নি।
সৈকতের বিচ বাইক চালক জমির উদ্দিন বলেন, সমুদ্রসৈকতে বিচ বাইক চালিয়েই আমার সংসার চলে। কিন্তু ভারী বৃষ্টি ও ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেতের কারণে পর্যটক নেই বললেই চলে। তিন দিন পর সৈকতে এলেও আজ কোনো আয় হয়নি।
কিটকট (চেয়ার-ছাতা) ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, কিছু পর্যটক সৈকতে এলেও বৃষ্টির কারণে তারা বেশিক্ষণ থাকছেন না। ফলে সারাদিন চেয়ার-ছাতাগুলো প্রায় ফাঁকাই পড়ে থাকছে। ব্যবসা একেবারে বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা।
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মুখপাত্র আবিদ আহসান সাগর বলেন, টানা বৈরী আবহাওয়ায় কক্সবাজারে পর্যটকের আগমন আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে হোটেল-রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, সৈকতকেন্দ্রিক ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ পুরো পর্যটন শিল্পে। গত চার-পাঁচ দিনেই এ খাতে প্রায় ১০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রাথমিক হিসাব।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবহাওয়ার উন্নতি না হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। সামনে সপ্তাহান্তকে ঘিরে যে পর্যটক সমাগমের আশা ছিল, তাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এতে পর্যটননির্ভর হাজারো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সেবাখাতের কর্মীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









