বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় গভীর রাতে এক গৃহবধূকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকারও উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় স্বস্তি ফিরলেও স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য ভরপাশা গ্রামের বাসিন্দা হালিম হাওলাদারের বাড়িতে সংঘবদ্ধ চোরের একটি দল প্রবেশ করে। এ সময় ঘরের ভেতরে থাকা গৃহবধূ নাজমা বেগম চোরদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।
একপর্যায়ে চোরেরা নাজমা বেগমের দুই কান কেটে কানের স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নেয়। একই সঙ্গে তার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন খুলে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা গৃহবধূর চিৎকারে পরিবারের সদস্য ও আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন।
পরে তাকে রাতেই বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়দের সন্দেহের ভিত্তিতে একই এলাকার সুমন শরীফ ও জাহিদ শরীফকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তারা লুটের ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন বলে স্থানীয়রা জানান। পরে খবর পেয়ে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সুমন শরীফ ও জাহিদ শরীফ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক সেবন ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। মাদকের অর্থ জোগাড় করতেই তারা এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গেও তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন বলেন, ‘‘গৃহবধূকে আহত করে স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে লুট হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়রা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল অপরাধীকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং এলাকায় চুরি ও মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধ দমনে পুলিশের নিয়মিত অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি এলাকায় কার্যকর নজরদারি বাড়ানো হলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









