কারখানা বন্ধের এক মাস পেরিয়ে গেলেও বকেয়া বেতন ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধ না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছে বরিশালের অলিম্পিক সিমেন্ট অ্যান্ড ফাইবার লিমিটেডের শ্রমিকরা। বকেয়া বেতন-ভাতা, অন্যান্য পাওনা পরিশোধ, কারখানা পুনরায় চালু এবং চাকরির নিশ্চয়তার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন তারা।
শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ১০টায় কারখানার প্রধান ফটকের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শ্রমিকরা। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে রুপাতলি এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে শ্রমিক নেতারা তাদের দাবি তুলে ধরে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন অলিম্পিক সিমেন্ট অ্যান্ড ফাইবার লিমিটেড শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম সরদার। বক্তব্য দেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) বরিশাল জেলা সমন্বয়ক ডা. মনীষা চক্রবর্তী, শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক পাভেল হাওলাদার এবং সহকারী সাধারণ সম্পাদক মো. শাকিল হাওলাদার।
এ সময় শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট বরিশাল জেলা শাখার ক্রীড়া সম্পাদক গাজী মোহাম্মদ বেল্লাল হোসেন, সোনারগাঁও টেক্সটাইল শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি ইমরান খান, সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন, মেডিমেট ফার্মাসিউটিক্যাল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সোনিয়া আক্তারসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।
বক্তারা বলেন, কারখানা বন্ধ হওয়ার পর টানা এক মাস ধরে প্রায় পাঁচ শতাধিক শ্রমিক কর্মস্থলে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও তাদের বকেয়া বেতন ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধ করা হয়নি। এতে শ্রমিক ও তাদের পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অনেকের সংসার চালানো, সন্তানের পড়াশোনা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
তারা অভিযোগ করেন, শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা আদায়ে বারবার দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। ফলে শ্রমিকদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে।
সমাবেশে নেতারা জানান, মালিকপক্ষ আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে বকেয়া বেতন এবং ২০ জুলাইয়ের মধ্যে শ্রমিকদের সব ধরনের পাওনা পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছে। তারা বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে শ্রমিকরা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে শ্রমিকদের সব পাওনা পরিশোধ না করা হলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধসহ বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এ পরিস্থিতির দায় মালিকপক্ষকেই বহন করতে হবে।
সমাবেশ থেকে দ্রুত শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধ, অলিম্পিক সিমেন্ট কারখানা পুনরায় চালু এবং শ্রমিকদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, জেলা প্রশাসন ও কারখানা কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। একই সঙ্গে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলনে বরিশালবাসীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেন বক্তারা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









