বরিশালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন সরকারি সফরকে কেন্দ্র করে সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের সদ্য পুনঃখনন করা ঐতিহাসিক ‘স্বনির্ভর খাল’ পরিদর্শন এবং খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
তাদের দাবি, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত এই খাল কেবল একটি জলাধার নয়; এটি দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ, ইতিহাস ও জনজীবনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত একটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা। তাই প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে খালটি অন্তর্ভুক্ত করা হলে স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার বাস্তবায়ন হবে।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর ১২টায় বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চরকাউয়া ইউনিয়নের সাধারণ কৃষকদের পক্ষে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো.কেরামত আলী হাওলাদার।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রায় ৪৮ বছর পর পুনঃখননের মাধ্যমে ঐতিহাসিক স্বনির্ভর খালটি আবারও তার প্রাণ ফিরে পেয়েছে। দীর্ঘদিন অবহেলা ও পলি জমে খালটি প্রায় অস্তিত্ব হারাতে বসেছিল। পুনঃখননের ফলে এখন হাজারো কৃষক সেচ সুবিধা পাচ্ছেন, কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হয়েছে এবং স্থানীয় কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। পাশাপাশি খালটি ঘিরে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারেরও সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, এই খাল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকায় চরকাউয়ার মানুষের কাছে এর গুরুত্ব আরও বেশি। তাই স্থানীয়দের প্রত্যাশা ছিল, আগামী ১৩ জুলাই বরিশাল সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খালটি পরিদর্শন করবেন এবং খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে একটি পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন উদ্যোগের সূচনা করবেন। কিন্তু ঘোষিত সফরসূচিতে এ কর্মসূচি স্থান না পাওয়ায় স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে চরকাউয়ার স্বনির্ভর খালের দুই পাড় এখনও প্রায় সম্পূর্ণ বৃক্ষশূন্য। এ এলাকায় পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ করা হলে একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে, অন্যদিকে খালের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, মাটি সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য উন্নয়নের পাশাপাশি এটি একটি স্থায়ী স্মারক হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে একটি মহল স্বনির্ভর খালের পুনঃখনন কার্যক্রম নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করছে বলেও অভিযোগ করা হয়। বক্তাদের দাবি, কিছু নিবন্ধনহীন ও অনলাইনভিত্তিক গণমাধ্যমে প্রকল্পটি নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অসত্য তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে এবং একটি জনকল্যাণমূলক উন্নয়ন কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা।
তারা বলেন, সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত খালের পুনঃখনন ও সংস্কার কাজে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে চরকাউয়া ইউনিয়নের সাধারণ কৃষকদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি স্বনির্ভর খাল পরিদর্শন, খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ এবং খালকেন্দ্রিক কৃষি, পরিবেশ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানানো হয়। তারা আশা প্রকাশ করেন, জনগণের আবেগ, ইতিহাস এবং জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকারপ্রধান ভবিষ্যতে খালটির উন্নয়ন কার্যক্রমে সরাসরি সম্পৃক্ত হবেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মো. জাহাঙ্গীর হাওলাদার, মো. আনোয়ার মহিউদ্দিন, ছোরাপ, কল্যাণ অধিকারী, মো. আতাহার হাওলাদার, মো. বেলায়েত হোসেনসহ চরকাউয়া ইউনিয়নের কৃষক দল এবং স্থানীয় কৃষক সমাজের নেতৃবৃন্দ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









