সিলেটের জৈন্তাপুরে ফারজানা আক্তার শিমু (২৩) নামে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। তবে নিহতের বাবার দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী ও শাশুড়িকে আটক করেছে জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ।
শনিবার (১১ জুলাই) সকালে উপজেলার ১ নং নিজপাট ইউনিয়নের রুপচেং উত্তর মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফারজানা আক্তার শিমু একই এলাকার রাসেল আহমেদের স্ত্রী। নিহতের পরিবার মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
নিহতের পিতা সেলিম আহমদ জানান, প্রায় ছয় মাস আগে রুপচেং উত্তর মহল্লার বাসিন্দা মৃত সামসুল ইসলামের ছেলে রাসেল আহমদের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবি, মানসিক নির্যাতন এবং বিভিন্ন বিষয়—বিশেষ করে ইফতারের সামগ্রী ও সম্প্রতি আম-কাঁঠাল ও বাড়ি নির্মাণে টাকার জন্য স্বামীর বাড়ির লোকজন প্রায়ই চাপ প্রয়োগ করতো। এসব বিষয়ে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে পারিবারিক কলহ লেগেই থাকত বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও জানান, গত ৬ জুলাই শিমুকে তার স্বামী ও শাশুড়ি চিকিৎসার জন্য জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে উভয় পক্ষের অভিভাবকদের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হলে শিমু অসুস্থ অবস্থায় বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসা শেষে শুক্রবার (১০ জুলাই) উভয় পরিবারের সম্মতিতে বিকেলে তাকে আবার স্বামীর বাড়িতে পৌঁছে দেন।
নিহতের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ৯টায় শিমুর স্বামী রাসেল আহমদ ফোন করে জানায় শিমু ঘরের দরজা বন্ধ করে গলায় ফাঁস দিয়েছেন। তাদের দাবি, খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে গেলেও প্রায় ১০–১৫ মিনিট পর শিমুকে সেখানে আনা হয়।
কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জৈন্তাপুর মডেল থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ হাসপাতাল ও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তবে এই ঘটনাটিকে সন্দেহজনক মৃত্যু বলে দাবি করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন এবং মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, ‘‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









