ঝুম বৃষ্টিকে সঙ্গী করেই বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় এক ব্যতিক্রমী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকারের ঘোষিত ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে নবখননকৃত সরিকল-বাটাজোর খালের দুই পাড়জুড়ে একযোগে রোপণ করা হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার গাছের চারা। কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ১০টায় গৌরনদী উপজেলার সরিকল-বাটাজোর খালের তীরে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে একটি নারিকেল গাছের চারা এবং পরে একটি নিমগাছসহ কয়েকটি চারা নিজ হাতে রোপণ করেন। এরপর ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে শুরু হয় একযোগে আড়াই হাজার গাছের চারা রোপণ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশজুড়ে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, বাংলাদেশের আবহাওয়ায় দৃশ্যমান পরিবর্তন ইতোমধ্যে মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলছে। কোথাও অতিবৃষ্টি, কোথাও দীর্ঘ অনাবৃষ্টি, আবার ঋতুচক্রেও এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। এ বাস্তবতায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়তে পরিকল্পিত সবুজায়ন অপরিহার্য।
তিনি আরও বলেন, খাল পুনঃখনন ও বৃক্ষরোপণের মতো জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির ভিত্তি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্থাপন করেছিলেন। পরে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়েছিলেন। বর্তমান সরকারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেশব্যাপী পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে শুধু চারা রোপণ করাই যথেষ্ট নয়, প্রতিটি গাছকে সঠিকভাবে পরিচর্যা করে বড় করে তোলার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, একটি গাছ বড় হলে তা শুধু অক্সিজেনই দেয় না, মানুষকে ছায়া দেয়, জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে এবং পরিবেশকে বাসযোগ্য রাখে। আজ যে গাছটি লাগানো হবে, তার সুফল ভোগ করবে আপনার সন্তান, আপনার পরিবার এবং আগামী প্রজন্ম।
উপস্থিত সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজের সন্তানের মতোই প্রতিটি গাছের যত্ন নিন। যত্নে বড় হয়ে ওঠা একটি গাছ একদিন পুরো সমাজের সম্পদে পরিণত হবে।
এর আগে সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক হয়ে গৌরনদীর ভূরঘাটা এলাকায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই তাঁর প্রথম বরিশাল সফর। সেখানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান। পরে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের শুভেচ্ছা এবং করতালির মধ্য দিয়ে তাঁর গাড়িবহর কর্মসূচিস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়।
বৃষ্টিস্নাত সকালেও কর্মসূচিকে ঘিরে সরিকল-বাটাজোর খালপাড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।এই প্রতিবেদনটি প্রকাশের আগে এতে উল্লেখিত ব্যক্তি, পদবি ও ঘটনার তথ্য নির্ভরযোগ্য সূত্রের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া উচিত, বিশেষ করে রাজনৈতিক পদবি ও পরিচয় সম্পর্কিত অংশগুলো।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









