ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে র্যাবের গোয়েন্দা সদস্যদের ওপর সশস্ত্র হামলা, আটকে রেখে নির্যাতন এবং ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও কুখ্যাত শফিক ডাকাতকে রাজধানী ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৯ ও র্যাব-১০ এর যৌথ আভিযানিক দল। র্যাবের দাবি, হত্যা, ডাকাতি, ধর্ষণ, মাদক, চাঁদাবাজি ও পর্নোগ্রাফিসহ ১৫ টির অধিক মামলার আসামি শফিক দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।
সোমবার ১৩ জুলাই র্যাব-৯, সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ নুরনবী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
র্যাব জানায়, গত ১১ মে তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে র্যাব-৯, সিপিসি-১-এর চার গোয়েন্দা সদস্য নবীনগরের খাগাতুয়া এলাকায় গেলে শফিক ডাকাত ও তার সহযোগীরা তাদের ওপর অতর্কিত সশস্ত্র হামলা চালায়। পরে চার সদস্যকে প্রায় তিন ঘণ্টা আটক রেখে অমানবিক নির্যাতন করা হয়। খবর পেয়ে অতিরিক্ত র্যাব সদস্য ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
হামলায় কনস্টেবল মালেক মাথায় গুরুতর আঘাত পান। হাবিলদার রাশেদের ডান হাত এবং কনস্টেবল কাজলের বামহাত ভেঙে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য আহতদের ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার পরপরই র্যাব-৯ ব্যাপক অভিযান শুরু করে। প্রথম দফায় পাঁচজন এবং পরবর্তী অভিযানে আরও চারজনকে গ্রেফতার করা হলেও শফিক ডাকাত প্রতিবারই কৌশলে পালিয়ে যায়। প্রায় দুই মাস পর একটি বিকাশ অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
রবিবার রাতে আনুমানিক ১২ টা ২০ মিনিটে র্যাব-৯ ও র্যাব-১০-এর যৌথ দল রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর থানার ঝাউলাহাটি শহীদ কাওসার রোড এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শফিক জানিয়েছে, ঘটনার দিন প্রতিপক্ষের একটি বাড়িতে হামলার পর সে ও তার সহযোগীরা আব্দুল কাদির মিয়ার বাড়িতে অবস্থান করছিল। এ সময় র্যাব অভিযানে আসছে, এমন খবর পেয়ে তারা প্রস্তুতি নেয় এবং পরে র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। হামলার পর সদস্যদের আটক রেখে নির্যাতন এবং সেই ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যাতে র্যাবের মনোবল ক্ষুণ্ন করা যায়।
র্যাবের তথ্যমতে, এর আগে নবীনগর থানা পুলিশ ও র্যাবের ওপর শফিক বাহিনী তিনবার হামলা চালায়। এসব ঘটনায় নবীনগর থানায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে। এছাড়া হত্যা, ডাকাতি, চুরি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদক ব্যবসা, ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফিসহ ১৫ টির বেশি মামলার আসামি শফিক অপরাধজগতে প্রথমে চুরি দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও পরে এলাকায় ভয়ংকর সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। দিনের আলোয় ডাকাতি চালালেও তার ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পেত না বলে দাবি করেছে র্যাব।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার শফিক ডাকাতের বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে তার সহযোগীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









