অনলাইন জুয়া, থাই লটারি ও ভিসা প্রতারণার মাধ্যমে প্রবাসীদের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে নীলফামারীর সৈয়দপুরে সাহিদ (২৮) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (১২ জুলাই) রাতে শহরের ইসলামবাগ এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার সাহিদ সৈয়দপুরের উপশহর ঢেলাপীর উত্তরা আবাসন এলাকার সিরাজের ছেলে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে তাকে নীলফামারী আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাহিদের স্থায়ী বাড়ি ঢেলাপীর এলাকায় হলেও তিনি ইসলামবাগে শ্বশুর জাবেদের বাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করতেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ও তার স্ত্রী আয়েশা ওরফে বাবলি অনলাইনে থাই লটারি, ভিসা সংক্রান্ত প্রতারণাসহ বিভিন্ন সাইবার অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে এবং সুনির্দিষ্ট তথ্যের আলোকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানকালে সাহিদের ব্যবহৃত তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সাইবার ক্রাইম ও প্রতারণা সংক্রান্ত আইন, ২০২৫ অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার নম্বর-১৭।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সৈয়দপুর থানার এসআই মনির উদ্দিন জানান, জব্দ করা মোবাইল ফোনগুলো প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে অনলাইন জুয়া ও থাই লটারির নামে প্রতারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে।
এ দিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রায় বছর আগেও সাহিদ বাক্স ও বালতি তৈরির কাজ করতেন। পরে অল্প সময়ের মধ্যে তিনি বিপুল অর্থসম্পদের মালিক হন। দামি মোটরসাইকেল, আইফোন ব্যবহার এবং নিয়মিত বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণের কারণে এলাকায় এ নিয়ে নানা আলোচনা ছিল।
তাদের অভিযোগ, সাহিদের স্ত্রী আয়েশা ওরফে বাবলি দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অবৈধ অর্থ উপার্জন করতেন। পরে সাহিদকে বিয়ে করে দুজন মিলে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেন।
ঘটনার পর সাহিদের পরিবারের সদস্যদের অনেককে এলাকায় পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে সাহিদের স্ত্রী আয়েশা ওরফে বাবলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, “নির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে সাহিদকে আটক করে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর রবিবার রাতেই মামলা দায়ের করা হয়। এবং সোমবার সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে আরও তথ্য পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অনলাইন প্রতারণার বিরুদ্ধে এরুপ অভিযান চলমান থাকবে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









