নরসিংদীর মাধবদীতে পারিবারিক বিরোধের জেরে দুই মাস বয়সী এক শিশুর পা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার আপন চাচির বিরুদ্ধে। ঘরে থাকা গোপন ক্যামেরায় এই পৈশাচিক নির্যাতনের দৃশ্য ধরা পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শিশুটি ওই গ্রামের কাউসার মিয়া ও সায়েবা বেগম দম্পতির সন্তান। অভিযুক্ত রত্না বেগম কাউসারের বড় ভাইয়ের স্ত্রী।
শিশুটির পরিবার জানায়, জন্মের পর থেকেই শিশুটি ঘরের ভেতর অস্বাভাবিকভাবে কান্নাকাটি করত। এতে মা সায়েবা বেগমের মনে সন্দেহ জাগে। কেউ তাঁর অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে শিশুর ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত হতে তিনি সম্প্রতি ঘরের ভেতর গোপনে একটি মোবাইল ফোনে ভিডিও চালু করে রাখেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, সায়েবা বেগম ঘরের বাইরে যাওয়ার পর চাচি রত্না বেগম সেখানে প্রবেশ করেন। তিনি ঘুমন্ত শিশুটির একটি পা সজোরে মুচড়ে দিয়ে দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে যান। পরে শিশুর কান্না শুনে মা ঘরে এসে তাকে ছটফট করতে দেখেন।
শিশুর বাবা কাউসার মিয়া বলেন, "পারিবারিক কলহের জেরে আমার ভাইয়ের স্ত্রী অগোচরে শিশুটিকে নির্যাতন করত। ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা গেছে সে পা মুচড়ে দিয়েছে। তবে আল্লাহর রহমতে সন্তানের পা ভাঙেনি। বিষয়টি নিয়ে পরে পারিবারিকভাবে বসে সমাধান করা হয়েছে।"
তবে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর কেন কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, সে প্রশ্ন এড়িয়ে যান তিনি।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন,
"সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি দেখার পর আমি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়েছি এবং শিশুটির মা-বাবার সাথে কথা বলেছি। শিশুটির পা ভাঙেনি বলে তাঁরা জানিয়েছেন। তবে পারিবারিক কলহের জেরে শিশুটির ওপর এই নির্যাতন চালানো হতো। পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









