মাত্র কয়েক মাস আগে তিস্তার ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে নির্মিত নতুন তীর সংরক্ষণকাজ নদীগর্ভে বিলীন হতে শুরু করেছে। বর্ষার তীব্র স্রোতে ইতোমধ্যে বাঁধের প্রায় ২০০ মিটার অংশ ভেঙে গেছে। সেই সাথে বিলীন হয়েছে কয়েকটি বসতবাড়ি, তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা এবং পানিবন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় ৫০০ পরিবার। ফলে নতুন করে ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে গঙ্গাচড়া ও লালমনিরহাটের প্রায় দেড় হাজার পরিবারের।
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মর্ণেয়া ইউনিয়নের নরশিং ও তালপট্টি এবং লালমনিরহাট সদর উপজেলার হরিণচড়া এলাকায় এই ভাঙন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাতে তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলে নদীতে তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়। এর পরপরই নতুন নির্মিত তীর সংরক্ষণকাজের বিভিন্ন স্থানে ধস নামে এবং রাতের মধ্যেই প্রায় ২০০ মিটার অংশ নদীগর্ভে চলে যায়।
আজ বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, লালমনিরহাটের আদর্শপাড়া থেকে গঙ্গাচড়ার তালপট্টি হয়ে নরশিং পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় নির্মিত তীর সংরক্ষণকাজের বিভিন্ন স্থানে ধস নেমেছে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন এলাকায় ভাঙন ছড়াতে থাকায় স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘ দাবির পর চলতি বছর ত্রাণ উপদেষ্টা আসাদুল হাবিব দুলুর উদ্যোগে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সেখানে তীর সংরক্ষণকাজ বাস্তবায়ন করেছিল। এতে নদীপাড়ের মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরলেও কয়েক মাসের মাথায় তা ভেঙে যাওয়ায় চরম হতাশা নেমে এসেছে।
তালপট্টি গ্রামের আনোয়ারুল ইসলাম বলেন,"অনেক আশা ছিল এবার আর ভাঙন হবে না। কিন্তু কয়েক মাসও টিকল না। চোখের সামনে নতুন বাঁধ নদীতে চলে যাচ্ছে। এখন আবার ঘরবাড়ি সরানোর চিন্তা করতে হচ্ছে।"
হরিণচড়া গ্রামের সাইদুল ইসলাম জানান, জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ও কংক্রিট ব্লক ফেলে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো বাঁধটিই নদীতে চলে যেতে পারে।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, "কয়েক দিন ধরেই ওই এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে ৬ হাজার জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙনরোধের কাজ চলছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









