গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে লোহার রড ও লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের পর ওই গৃহবধূর কাছ থেকে জোরপূর্বক ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে সন্তানদের আটকে রেখে তাঁকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
গুরুতর আহত ওই গৃহবধূ (৩৪) বর্তমানে গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৫ বছর আগে সনাতন ধর্মের রীতিনীতি অনুযায়ী সুন্দরগঞ্জ থানার শ্রী প্রশান্ত কুমারের (৪০) সাথে ওই গৃহবধূটির বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে ৩টি সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে তাঁর ওপর প্রায়ই নির্যাতন চালানো হতো। এ নিয়ে পূর্বে আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হলে, আদালত গত ৫ জুলাই আসামিকে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঘরসংসার করার নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশ মেনে গৃহবধূ স্বামীর বাড়ি ফিরে যান। কিন্তু এর মাত্র কয়েকদিনের মাথায়, গত ১১ জুলাই বিকেলে স্বামী প্রশান্ত কুমার ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা পুনরায় ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। বাপের বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্বামীসহ অন্যান্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, মারধরের একপর্যায়ে ওই গৃহবধূর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা মারধর থামায়। এরপর জোরপূর্বক ১০০ টাকার ৩টি নন-জুডিশিয়াল ফাঁকা স্ট্যাম্পে তাঁর স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয় এবং সন্তানদের আটকে রেখে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ভুক্তভোগীর বাবা ও স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে গত ১২ জুলাই গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
বাদী পক্ষ এই বর্বরোচিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









