চা শ্রমিকদের মানসম্মত জীবনযাপন নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে সিলেট নগরীর যুগলটিলাস্থ ইসকন মন্দির প্রাঙ্গণে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রথযাত্রা উৎসবের শুভ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, চা শ্রমিকদের বিষয়টি আমরা বিশেষভাবে বিবেচনা করছি। আমাদের মনে হয়, তাদের একটি মানসম্মত সামাজিক অবস্থান হওয়া উচিত। তাদের পরিবার-পরিজন যেন সুচিকিৎসা পায়, বাসস্থানের যেন সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর ব্যবস্থা হয় এবং তাদের সন্তানদের লেখাপড়ার পর্যাপ্ত সুযোগ থাকে; তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’’
চা শ্রমিকদের বিদ্যমান মজুরি কাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার কথা উল্লেখ করে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘‘চা শ্রমিকরা মূলত দ্বিমুখী সুবিধা পেয়ে থাকেন। একদিকে তারা সাপ্তাহিক ভিত্তিতে নগদ মজুরি পান, অন্যদিকে বাগান কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বাসস্থান, রেশন ও চিকিৎসা সুবিধা পেয়ে থাকেন।’’
মজুরি নির্ধারণ প্রক্রিয়ার বিষয়ে তিনি জানান, প্রতি তিন বছর পর পর মালিকপক্ষের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে চা শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। বর্তমান সরকার শ্রমিকবান্ধব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘সাম্প্রতিক ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় প্রতিটি চা শ্রমিক তাদের প্রাপ্য উৎসব ভাতা সময়মতো পেয়েছেন। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই অত্যন্ত জোরালোভাবে শ্রমিকবান্ধব মনোভাবের প্রমাণ দিয়েছে।’’
এর আগে বেলা ১১টায় সিলেটে ইসকনের রথযাত্রা মহোৎসবের উদ্বোধন করে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
এ সময় তিনি বলেন, ‘‘এই বাংলাদেশ সবার। সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহাবস্থানের ঐতিহ্যই আমাদের শক্তি। সকল ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে পালন করবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা এবং এ ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’’
অনুষ্ঠানে ইসকন বাংলাদেশের রিসলভের চেয়ারম্যান যুগধর্ম দাস, সংগঠনটির ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের চেয়ারম্যান ঋষিকেশ গৌরাঙ্গ দাস, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সমাজসেবা বিভাগের সম্পাদক বুদ্ধি গৌর দাস অধিকারী, সিলেটের হিন্দু বিভাগীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি সুদীপ রঞ্জন সেন বাপ্পুসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









