সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের মুসলিম নগর-লাখেরপাড় থেকে জাফলং পর্যন্ত একমাত্র কাঁচা সড়কটি এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো রাস্তাটি কাদায় একাকার হয়ে যায়। ফলে এই অঞ্চলের পাঁচটি গ্রামের সাধারণ মানুষ ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। সড়কটি দ্রুত সংস্কার ও পাকাকরণের জন্য গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুসলিম নগর, কালিনগর ও লাখের পাড় গ্রামের মানুষের ব্যস্ততম জাফলং বাজারে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম এই সড়কটি। শুধু সাধারণ মানুষই নন, এই অঞ্চলের শত শত কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রী প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়েই আমির মিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং মুসলিম নগর উচ্চ বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে।
বর্ষা মৌসুমে বা সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। কাদার কারণে প্রায়ই শিক্ষার্থীরা পিছলে পড়ে বই-খাতা নষ্ট করে এবং মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হয়। যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
গ্রামীণ এই সড়কটি পাকা না হওয়ায় বছরের পর বছর ধরে তারা অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করছেন। শিক্ষা ও অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এই সড়কটি দ্রুত মেরামত ও পাকাকরণ এখন সময়ের দাবি বলে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান।
সড়কের দুর্ভোগ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই এই রাস্তায় হাঁটা যায় না। জামাকাপড় ও বইখাতা কাদায় নষ্ট হয়ে যায়। আমাদের এই কষ্টের শেষ কবে হবে?
সমস্যার সত্যতা স্বীকার করে স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) আওয়াল মিয়া বলেন, এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। রাস্তাটি কাঁচা হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই কাদার সৃষ্টি হয়। আমি ইউনিয়ন পরিষদে একাধিকবার বিষয়টি উত্থাপন করেছি এবং দ্রুত সড়কটি মেরামতের দাবি জানাচ্ছি।
জানতে চাইলে পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, সড়কটির বেহাল দশার কথা আমি জানি। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের আওতায় এই সড়কটি সংস্কারের জন্য আমরা প্রকল্প তৈরি করছি। বাজেট পেলেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাস্তাটির কাজ শুরু করা হবে।
বিষয়টি নিয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী জানান, মুসলিম নগর-লাখেরপাড় থেকে জাফলং সড়কের বেহাল দশা এবং এর কারণে আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের দুর্ভোগের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আমার নজরে এসেছে। শিক্ষা ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে খুব শীঘ্রই আমি নিজে সড়কটি সরেজমিন পরিদর্শন করব। শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে এবং স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি লাঘবে আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সড়কটির স্থায়ী ও টেকসই সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









