পাবনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী পরিচয়ে ভুয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে তরুণদের সঙ্গে প্রতারণা ও অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ বাড়ছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। বিশেষ করে সুদর্শন ও তরুণ বয়সী ব্যবহারকারীদের টার্গেট করে একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ধরনের ঘটনায় সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পাবনা সদর উপজেলার সাধুপাড়া এলাকার বাসিন্দা রাসেল আহমেদ জানান, সম্প্রতি নারী পরিচয়ের একটি ফেসবুক আইডি থেকে তিনি ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পান। রিকোয়েস্ট গ্রহণের পর মেসেঞ্জারে নিয়মিত কথোপকথনের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে ওই আইডি থেকে তাকে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে সন্দেহ হওয়ায় তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
আরেক ভুক্তভোগী, পাবনা সদর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের এক কলেজ শিক্ষার্থী শিহাব উদ্দিন (ছদ্মনাম) বলেন, ফেসবুকে এক নারীর সঙ্গে পরিচয়ের পর নিয়মিত ভিডিও কলে কথা হতো। পরে দেখা করার সিদ্ধান্ত নিলে তিনি বুঝতে পারেন, নারী পরিচয়ে যোগাযোগকারী ব্যক্তি আসলে একজন পুরুষ। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি সঙ্গে সঙ্গে আইডিটি ব্লক করে দেন এবং অন্যদেরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে পাবনার বিভিন্ন এলাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী কিশোর ও তরুণদের মধ্যে এ ধরনের হয়রানির অভিযোগ বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ, অনাকাঙ্ক্ষিত প্রস্তাব দেওয়া কিংবা মানসিকভাবে হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের কেপি সেন্টারের একটি গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বিভিন্ন যৌন ও লিঙ্গ বৈচিত্র্যের মানুষের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জেলায় মোট ১৬ জন এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ৭ জন পুরুষে-পুরুষে যৌনসম্পর্কে জড়িত ছিলেন। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এইচআইভি সংক্রমণ কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর পরিচয়ের কারণে নয়; বরং অনিরাপদ যৌন আচরণ, সূঁচ ভাগাভাগি বা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই কোনো জনগোষ্ঠীকে দায়ী না করে নিরাপদ আচরণ ও সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, ভুয়া পরিচয়ে প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল বা অনলাইন হয়রানি একটি সাইবার অপরাধ। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য বা ছবি শেয়ার না করা, ভিডিও কলে সতর্ক থাকা এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো উচিত।
এ বিষয়ে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, “এ ধরনের কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেনি। তবে কেউ যদি ভুয়া আইডি, প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল বা অনলাইন হয়রানির শিকার হন, তাহলে দ্রুত থানায় অথবা সংশ্লিষ্ট সাইবার ইউনিটে যোগাযোগ করুন। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত কারও সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার আগে পরিচয় যাচাই করা, ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখা এবং সন্দেহজনক আচরণ দেখলেই যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া—এগুলোই অনলাইন নিরাপত্তার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









