কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক-সামাজিক বিরোধের জেরে দুই যুবককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। হামলায় গুরুতর আহত আরও একজন হাসপাতালে মৃত্যুর মুখোমুখি।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের দেবীনগর গ্রামে এ বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
একই রাতে দুই গ্রামবাসীর নির্মম মৃত্যুর ঘটনায় গোটা এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে নিহতরা হলেন-দেবীনগর গ্রামের মৃত চাঁদ আলীর ছেলে ফারুক হোসেন (৪০) এবং একই ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের আতিয়ার শেখের ছেলে আব্দুল শেখ (২৫)। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন একই এলাকার মুল্লুক মণ্ডল নামের আরও একজন।
পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, খোকসা উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় ছালিম হোসেন এবং মিন্টু চৌকিদার গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এলাকায় প্রভাব খাটানো ও পূর্বের নানা দ্বন্দ্বের জেরে প্রায়ই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হতো। নিহত ফারুক ও আব্দুল এবং আহত মুল্লুক- তারা সবাই স্থানীয় ছালিম হোসেন গ্রুপের সক্রিয় সমর্থক হিসেবে পরিচিত।
এলাকাবাসী জানান, পূর্ববিরোধের জেরে গত শুক্রবার বিকেলেই দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর থেকেই পুরো এলাকায় এক ধরনের চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বিকেলের সংঘর্ষের জের ধরে রাত পৌনে ১টার দিকে মিন্টু চৌকিদারের সমর্থকেরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পরিকল্পিতভাবে ছালিম হোসেনের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো রামদা, ঢাল-সুরকি নিয়ে বাড়িতে ঢুকে সেখানে অবস্থান করা ফারুক হোসেন, আব্দুল শেখ ও মুল্লুক মণ্ডলকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মারা যান ফারুক ও আব্দুল। তাদের বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর জখম হন মুল্লুক মণ্ডল।
খবর পেয়ে রাতেই খোকসা থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ রক্তার্থ মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এছাড়া মুমূর্ষু অবস্থায় মুল্লুক মণ্ডলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শনিবার সকালে দেবীনগর ও খানপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায় এক থমথমে পরিস্থিতি। জোড়া খুনের ঘটনার পর গ্রেপ্তার আতঙ্কে মিন্টু চৌকিদার গ্রুপের পুরুষ সদস্যরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। যেকোনো সময় পাল্টা হামলার আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন বলেন, “মূলত স্থানীয় মিন্টু চৌকিদার ও ছালিম হোসেন গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জের ধরেই এই জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর পরই পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।”
তিনি আরও জানান, “বর্তমানে এলাকায় নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে অভিযান চালাচ্ছে। এ বিষয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









