চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং পেট্রোল পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন, জেলায় জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। তবে তেল সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর গত দুই দিন ধরে জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে মোটরসাইকেল চালকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল থেকে অতিরিক্ত চাহিদার কারণে শহরের কয়েকটি পাম্পে রেশনিং করে তেল বিক্রি করা হচ্ছে।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার হঠাৎ করেই চাঁপাইনবাবগঞ্জে জ্বালানি তেলের সংকটের খবর বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই মোটরসাইকেল চালকরা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনতে জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে ভিড় করতে শুরু করেন।
বুধবার সকালে শহর ও আশপাশের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন। অনেকেই আশঙ্কা থেকে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের চেষ্টা করেন। তবে পাম্প মালিকরা জানান, তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং প্রকৃত অর্থে কোনো সংকট নেই।
তবে বুধবার রাতে শহরের অন্তত তিনটি পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, কর্মীরা ক্রেতাদের জানাচ্ছেন, সেদিনের জন্য তেল শেষ হয়ে গেছে এবং পরদিন তেল দেওয়া হবে। এতে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করতে এসে অনেকেই ফিরে যান।
তেল না পেয়ে ফিরে আসা এক ভুক্তভোগী ‘দৈনিক এদিন’কে জানান, বাড়ি ফেরার আগে শহরের হোসেন পেট্রোল পাম্প ও ইসলাম পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে গেলেও কোথাও তেল পাননি। পাম্পের কর্মীরা জানান, সেদিনের জন্য তেল শেষ হয়ে গেছে, পরদিন তেল দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে রেশনিং করে মোটরসাইকেল প্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকার পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে।
পাম্প মালিকরা জানান, গত দুই দিনে গুজবের কারণে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি গ্রাহক অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করেছেন। ফলে বিদ্যমান মজুত দিয়ে সবার মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সাময়িকভাবে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি করা হচ্ছে।
এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। গুজব, অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল ক্রয় বা মজুত করা থেকে বিরত থাকার জন্য সকলের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি তেল ক্রয় করুন এবং বাজারে স্বাভাবিক সরবরাহ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহযোগিতা করুন।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের সমন্বয়ে বাজার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করা হচ্ছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি বা অবৈধ মজুতদারির মাধ্যমে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় বলা হয়েছে, ‘‘গুজবে নয়, সত্য তথ্যে আস্থা রাখুন। অপ্রয়োজনীয় মজুত নয়, সচেতন হোন—স্বাভাবিক বাজার ব্যবস্থা বজায় রাখতে সহযোগিতা করুন।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









