বরগুনার বেতাগী পৌর শহরে সরকারি জমিতে রাতের আঁধারে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও বিএনপি নেতার নির্মাণ করা দুটি দোকানঘর ভেঙে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় দুই শ্রমিককে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহ. সাদ্দাম হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানকালে সরকারি জমি দখল করে অবৈধভাবে তোলা দুটি দোকান ভেঙে অপসারণ করা হয়। এ সময় অবৈধ ঘর তোলার কাজ করায় ২ জন নির্মাণ শ্রমিককে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটককৃতদের ২ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, বেতাগী পৌর শহরের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ওই জমিটি স্থাপনাবিহীন পড়ে ছিল। কিন্তু উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও বিএনপির সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক নেছার উদ্দিন খানের নেতৃত্বে একদল লোক রাতের আঁধারে শহরের সদর রোডের সাকিব মেডিকেল হল ও বণিক পট্টির শ্রী গুরু জেনারেল স্টোর সংলগ্ন জমিতে দুইটি ঘর তোলেন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহ. সাদ্দাম হোসেন রাতেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মো. রুবেল হাওলাদার ও জামাল হাওলাদার নামের দুইজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। পরে ঘর তোলার ১০ ঘণ্টার মাথায় দুপুরে তা ভেঙে ফেলা হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই রাতেই ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আটক করা হয় এবং সরকারি জায়গা ছেড়ে যেতে বলা হয়েছিল, কিন্তু তারা যায়নি। ফলে সরকারি নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসন এ উচ্ছেদ অভিযান চালায়। তবে সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করার বিষয়ে এখনো কোনো মামলা হয়নি।
বেতাগী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শাহীন বলেন, ‘‘ইউএনও মহোদয়ের নিষেধ অমান্য করে বিএনপি নেতা পরিচয়ে রাতের আঁধারে নেছার খানের নেতৃত্বে ঘর তোলা হয়েছে। বিএনপির নাম ব্যবহার করে সে এসব অপকর্ম চালিয়ে আসছে। শুধু এটাই নয়, তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে, যা প্রশাসনের নজরে আছে।’’
স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতা অভিযোগ করেন, ইতিপূর্বে নেছার খানের চাঁদাবাজির ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মানববন্ধনও হয়েছে। নেছার খানের নামে চাঁদাবাজির মামলা হলেও আজ পর্যন্ত দলীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং বিএনপি নেতা পরিচয়ে তিনি উপজেলার বুড়ামজুমদার ইউনিয়নের পশ্চিম করুণা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন এবং উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি পরিচয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ গ্রহণ ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে চলাফেরা করছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. শাহজাহান কবির বলেন, ‘‘এখানে অবৈধ কোনো দখলবাজ ও লুটেরাদের জায়গা নেই। এদের কাউকে আমরা দলের লোক হিসেবে গণ্য করি না এবং তাদের সঙ্গে কোনো আপস নেই। যেহেতু রাতের আঁধারে অবৈধভাবে ঘর তুলেছে, তাই সে দলের কেউ নয়। সব দখলবাজকেই প্রতিহত করা হবে। জাতীয় সংসদের মাননীয় চিফ হুইপের নির্দেশে ইতোমধ্যে দোকানঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এখন তাকেও গ্রেপ্তার করতে হবে।’’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহ. সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘‘নিজের জায়গা হলেও পৌরসভা এলাকায় যে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে পৌরসভার অনুমতি লাগে। গভীর রাতে কিছু লোক পৌর বাজারে সরকারি জমিতে দোকান নির্মাণ করে। রাত প্রায় দুইটায় অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করা হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে দোকান ঘর উচ্ছেদ করা হয়েছে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









