রাত নামলেই আতঙ্ক নেমে আসে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে। পাহাড় থেকে নেমে আসা বন্য হাতির পালের ভয়ে দুই মাস ধরে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন বাসিন্দারা। ফসলহানি, বাড়িঘর ও সম্পদ নষ্টের পাশাপাশি মসজিদে নামাজ, মন্দিরে পূজা এমনকি বিহারে দেশনায় যেতেও ভয় পাচ্ছেন স্থানীয়রা।
মহৎবাড়ী এলাকার প্রায় ৭০ বছর বয়সী কৃষক আহমদুল হক জানান, ঘরের সামনে রাখা শুকনো ধান রক্ষায় প্রতি রাতেই পাহারা দিতে হয়। ভোরেও তার বাড়ির সামনে দিয়ে হাতির পাল চলে গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, হাতির তাণ্ডবে অন্তত ৪৮০ শতক জমির ধানের বীজতলা নষ্ট হয়েছে। ভেঙে দেওয়া হয়েছে ধানের গোলা, নলকূপ ও সীমানাপ্রাচীর। জৈষ্ঠ্যপুরা এলাকার জুনু মিয়ার ৪০ শতকের আখক্ষেত নষ্ট হয়ে প্রায় এক থেকে দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ফতেরখীল এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন বাদশা বলেন, ‘‘দুই মাস ধরে মানুষ আতঙ্কে থাকলেও বন বিভাগের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের চলাচল নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।’’
শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হাসান চৌধুরী বলেন, ‘‘সন্ধ্যা হলেই হাতি লোকালয়ে নেমে আসে। আক্রমণাত্মক হওয়ায় কেউ সামনে যেতে সাহস পান না। স্থানীয়দের নিয়ে হাতি তাড়ানোর একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাবও দেন তিনি।’’
চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেন, ‘‘লোকালয়ে হাতি প্রবেশের বিষয়টি তাদের জানা আছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এলিফ্যান্ট রেসকিউ টিম কাজ করবে। ক্ষতিগ্রস্তরা আবেদন করলে সরকারি বিধান অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ পাবেন।’’
তিনি জানান, বনাঞ্চলে খাদ্য ও আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ায় হাতি লোকালয়ে চলে আসছে। একবার কোনো এলাকায় খাবারের সন্ধান পেলে তারা স্মৃতিশক্তির কারণে বারবার সেখানে ফিরে আসে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









