কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় পুলিশ পরিচয়ে একটি বাড়িতে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। ডাকাতির ঘটনায় ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা, তিনটি মোবাইল ফোন এবং বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক লুট করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
রবিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার আব্দুল হামিদ সিকদারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী রেজাউল করিম বর্তমানে মহেশখালীর মাতারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব হিসেবে কর্মরত। তিনি জানান, রাত ১টার দিকে একটি গাড়ির শব্দ শুনে তিনি বাড়ির বাইরে বের হন। একই সময়ে আশপাশের আরও কয়েকজনও বাইরে আসেন। তখন একটি সাদা রঙের নোহা গাড়ি দ্রুতগতিতে এসে পাশের একটি কবরস্থানের কাছে থামে।
রেজাউল করিম বলেন , কিছুক্ষণ পর সিভিল পোশাকে থাকা ছয় ব্যক্তি গাড়ি থেকে নেমে তাদের আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। তারা নিজেদের পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে গভীর রাতে বাইরে থাকার কারণ, পেশাসহ বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চান।
একপর্যায়ে ওই ব্যক্তিরা তাঁর সঙ্গে থাকা আরও তিনজনকে দূরে নিয়ে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলেন। তাঁদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও টাকা নিয়ে নেওয়া হয়। পরে রাত আনুমানিক ৩টার দিকে রেজাউল করিমকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা তাঁর বাড়িতে যান।
রেজাউল করিম বলেন, আমি তাঁদের পুলিশ সদস্য মনে করে বাড়িতে নিয়ে যাই। কিন্তু বাড়ির ফটক দিয়ে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে আমার ঘাড়ে বন্দুক ঠেকিয়ে আমাকে জিম্মি করা হয়। তাঁদের সবার হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র ছিল। পরে পরিবারের নারী ও শিশুদেরও জিম্মি করা হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রথমে ডাকাতেরা রেজাউল করিমের বড় ভাই ও প্রবাসী জমির আলমের কক্ষে প্রবেশ করে। সেখানে জমির আলমের স্ত্রী আমেনা বেগমকে মারধর ও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাঁর পরনের স্বর্ণালংকার খুলে নেওয়া হয়। পরে আলমারির তালা ভেঙে প্রায় সাড়ে ৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা লুট করা হয়।
এরপর তিনজন ডাকাত রেজাউল করিমের কক্ষে ঢুকে তাঁর স্ত্রী তাসফিয়া সুলতানা কাজলকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করেন। পরে আলমারির তালা ভেঙে সাড়ে ৮ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে রেজাউল করিমকে মারধর ও অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আমেনা বেগম বলেন, তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাড়িতে ঢোকে। পরে অস্ত্র ও ছুরি বের করে আমাদের জিম্মি করে। আমাকে মারধর করে পরনের সব স্বর্ণালংকার খুলে নেয়। এরপর আলমারি ভেঙে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি আমাদের সন্তানদের জমানো খুচরা টাকার ব্যাংকও নিয়ে যায়।
তাসফিয়া সুলতানা কাজল বলেন, তারা আমার স্বামীর মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে জিম্মি করে। পরে আমার কক্ষে ঢুকে আলমারির চাবি খুঁজতে থাকে। আমার স্বামী অনুরোধ করলে তাঁর গলা চেপে ধরে। পরে আলমারি ভেঙে বিয়েতে পাওয়া প্রায় সাড়ে ৮ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং আমার হাতে থাকা মোবাইল ফোন নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীরা জানান, ডাকাতেরা চলে যাওয়ার আগে বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে যায়। পরে বাড়ির প্রধান দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে পরিবারের সদস্যদের ঘরের ভেতরে আটকে রেখে তারা পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









