হাওরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষাসেবাকে আরও কার্যকর করতে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। এই লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সঙ্গে ইতোমধ্যে একাধিক সভা করে সম্ভাব্যসমাধান ও করণীয় নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি আরো বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মূল লক্ষ্য হলো প্রতিটি শিশুর শিক্ষা নিশ্চিত করা। বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে কোনো শিক্ষার্থী যেন পিছিয়ে না থাকে, সে বিষয়ে শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে ধর্মীয়, পারিবারিক ও নাগরিক মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করে শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
সোমবার (২৭ জুলাই) সুনামগঞ্জ পিটিআই ভবনে জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, সুনামগঞ্জের হাওরের ক্যাচমেন্ট এলাকা (অববাহিকা এলাকায়) নিয়োগ দেওয়ার মতো খুবই কম শিক্ষক পাই। এজন্য আমাদের অন্য কোনো এলাকা থেকে দিতে হয়। কিন্তু অন্য এলাকাও ক্যাচমেন্ট এলাকা ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ হয়। কিছু এলাকা আছে, যেখানে শিক্ষক পাওয়া মুশকিল হয়। এরমধ্যে সুনামগঞ্জ জেলায়ও এই সমস্যা রয়েছে। এটির সমাধানে আমরা কাজ করছি। এজন্য কিছু সময় লাগবে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ফিডিং কর্মসূচি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি অনুসরণ করছে। প্রতিটি খাদ্য চালান প্রত্যয়িত ফুড টেকনিশিয়ান দ্বারা যাচাই, আকস্মিক কারখানা পরিদর্শন, মাদার্স কমিটির মাধ্যমে খাদ্য গ্রহণ এবং প্রয়োজনে পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, কর্মকর্তা বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি বিদ্যালয়ের উন্নয়নে কমিউনিটি সম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি শ্রেণিতে অভিভাবকদের নিয়ে ‘প্যারেন্ট সার্কেল’ এবং প্রতিটি বিদ্যালয়ে এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তি, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাদের সমন্বয়ে ‘স্কুল বন্ধু রেজিস্টার’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে বিদ্যালয় পরিচালনায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং শিক্ষা কার্যক্রমের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও গুণগত মান আরও শক্তিশালী হবে।
খাবার পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরীতে যাবে। স্কুলে মায়েদের নেতৃত্বে কমিটি করা হয়েছে যারা খাবার আসার পর পরীক্ষা করবেন। যারা খাবারডেলিভারি দেবেন, তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রসহ সবকিছু বিদ্যালয়ে
থাকতে হবে।
যে জায়গায় এসব নিয়ম মানা হচ্ছে সেখানে জিরো ত্রুটিতে চলে এসেছি আমরা। তবুও যদি কোনো অনিয়মের ঘটনা ঘটে তাহলে দায়িত্বশীলসহ সাপ্লাইয়ারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে সুনামগঞ্জ পিটিআই ভবনে প্রাথমিক শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন- জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান। বিশেষ অতিতির বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য জেলা জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. নুরুল ইসলাম নুরুল, পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস প্রমুখ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









