চলতি মৌসুমে পাবনার বেড়া উপজেলার চর এলাকা সহ বিভিন্ন স্থানে তৈল জাতীয় ফসল তিল,চিনাবাদাম এবং সোনালি আঁশ পাটের বাম্পার ফলন ও কাঙ্ক্ষিত দাম পেয়ে খুশি বেড়ার কৃষকরা। স্থানীয় কৃষকরা জানান, এ বছর প্রায় সব ধরণের ফসলেরই বাম্পার ফলন হয়েছে। এসব ফসলাদি হাট,বাজারে বিক্রি করে আশানুরুপ দামও পাওয়া যাচ্ছে। এতে করে কৃষকরা একদিকে যেমন স্বাবলম্বী হচ্ছেন অন্যদিকে চাষাবাদে আরও আগ্রহী হয়ে পরছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর উপজেলায় চিনাবাদাম ১ হাজার ৫৬৫ হেক্টর, তিল ২ হাজার ৫০০ হেক্টর এবং পাট ৩ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছিল।
উপজেলার চরাঞ্চল সহ কয়েকটি এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমান প্রতি মণ চিনা বাদাম ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা, তিল প্রতি মণ ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকা এবং পাট প্রতি মণ ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি হচ্ছে।
হাটুরিয়া গ্রামের পরেন শেখ বলেন, সে ১৩ বিঘা জমিতে তিল চাষ করে মোট ৪২ মণ তিল পেয়েছেন, প্রতি মণ তিল গড়ে ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি করেছেন। চর নাকালিয়া গ্রামের কোরমান আলি ১১ বিঘা জমিতে তিল চাষ করেন ৩৫ মণ তিল উৎপাদন নেমেছে। আরেক কৃষক হাসমত মোল্লা বলেন, তাঁর চার বিঘা জমিতে ১৫ মণ তিল হয়েছে সে এখনও বিক্রি করেনি দু' চারদিনের মধ্যে হাটে বিক্রির জন্য নিয়ে যাবে বাজারে তিলের দাম অনেক বেশি বলে সে অত্যন্ত খুশি।
চর পেচাকোলা গ্রামের আলম শেখ জানান, সে এ বছর ৯ বিঘা জমিতে তিল চাষ করে ২৭ মণ তিল পেয়েছেন বাজারে বিক্রি করে ভালো দাম পেয়েছেন যা দিয়ে আগামী দুই মাসের সাংসারিক খরচ অনায়াসে মিটাতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী। পেচাকোলা গ্রামের পাট চাষি আবু হানিফ বলেন , চলতি মৌসুমে তিনি ৩ বিঘা জমিতে সোনালী আঁশ পাটের আবাদ করেছিলেন , আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন অনেক ভালো হয়েছে। দু'দিন আগে প্রতিমণ শুকনো পাট ৪ হাজার ৬০০ টাকা দরে হাটে বিক্রি করেছেন।
চর নাগদাহ গ্রামের কৃষক এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহিদ মোল্লা জানান , তৈল জাতীয় ফসল তিল এবং চিনাবাদামের সিংহভাগ ফসল উৎপাদিত হয় চরাঞ্চল থেকে। তিনি এ বছর ৫ বিঘা জমিতে চিনাবাদাম চাষ করে প্রায় ৩৫ মণ চিনাবাদাম পেয়েছিলেন। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় ফলন অনেক ভালো হয়েছে। শুকনো বাদাম প্রতিমণ ৫ হাজার টাকা দরে আরও অনেক আগেই বিক্রি করছেন। তিল এবং চিনাবাদাম স্থানীয় অধিকাংশ কৃষকদের হাট-বাজারে এনে বিক্রি করা প্রায় শেষের দিকে। ভালো দামে এসব ফসল বিক্রি করে কৃষকদের মুখে ফুটে উঠেছে আনন্দের হাসি।
তিনি আরো বলেন, সোনালী আঁশ পাটের আবাদ চরাঞ্চলে অল্প পরিমাণ হয়।তবে যেটুকু হয়েছে অনেক ভালো ফলন হয়েছে।
সরেজমিনে রবিবার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নাকালিয়া হাটে ঘুরে দেখা যায় চর এলাকা থেকে কৃষকরা বস্তা বস্তা তিল এবং চিনাবাদাম নাকালিয়া বাজারে এনে আড়তে বিক্রি করছে।
নাকালিয়া বাজারের আড়তদার ওয়াহিদুজ্জামান কহু বলেন, এ বছর তিল, পাট, চিনা বাদাম, সহ বিভিন্ন ফসলের দাম গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। স্থানীয় কৃষকরা প্রায় ফসলেই আশাতীত দাম পেয়ে অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন তারা।
বেড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুসরাত কবীর বলেন, চলতি মৌসুমে তৈল জাতীয় ফসল তিল, চিনাবাদাম এবং সোনালী আঁশ পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে করে কৃষকরা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তিল এবং চিনাবাদাম কর্তন শেষ হয়েছে। অল্প কিছু জমির পাটের কর্তন এখনও বাকি রয়েছে। নিয়মিত মাঠ তদারকি এবং চাষে উদ্বুদ্ধ করণে কৃষি অফিস থেকে প্রান্তিক কৃষকদের নানা প্রণোদনা সহ বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি প্রতিবেদক কে জানিয়েছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









