কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় গত ২০ জুলাই ৭ম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় করিমগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়রি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
ঘটনার এক সপ্তাহ পার হলেও অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এতে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং পরিবার চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
জানা যায়, উপজেলার আশোতিয়া পাড়ার বাসিন্দা মো. সাইফুল মিয়ার (৩৮) মেয়ে শারমিন আক্তার সততা (১৪)। তার নানার বাড়ি উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের উত্তর গণেশপুর গ্রামে। সেখানকার একটি কওমী মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী সে।
দীর্ঘদিন ধরে আশোতিয়া পাড়ার বখাটে, মাদকাসক্ত সাইম (২২) নামের এক যুবক তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও অভিযুক্ত সাইম তার আচরণ থেকে বিরত হয়নি। বরং বিভিন্ন সময়ে হুমকি দেয় যে, তার প্রস্তাবে রাজি না হলে ওই ছাত্রীকে অপহরণ করা হবে।
ঘটনার দিন গত ২০ জুলাই সকাল ৭টায় শারমিন আক্তার সততা নানার বাড়ি থেকে চামড়াবন্দরে অবস্থিত খালার বাড়িতে যাওয়ার পথে সাইমসহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন সহযোগী তার পথরোধ করে। তার মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক একটি সিএনজি অটোরিকশায় তুলে অপহরণ করে সাইমের নিজ বাড়ি করিমগঞ্জ উপজেলার আশোতিয়া পাড়াতে নিয়ে যায়। ঘটনার পর পরিবারটি বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পায়নি।
পরে সাইমের পরিবারের সূত্রে জানা যায়, সাইম সততাকে বিয়ে করতে চায়। বিয়েতে সততার পরিবার সম্মতি দিলেই মেয়েকে ফেরত দেওয়া হবে।
সততার বাবা মো. সাইফুল মিয়া বলেন, ‘‘আমার মেয়ের বয়স মাত্র চৌদ্দ বছর। ছোট মেয়েকে এখনই বিয়ে দিতে চাই না। তাছাড়া ছেলে সাইম বখাটে ও মাদকাসক্ত। সে আমার মেয়েকে অত্যাচার করবে। সংসার টিকবে না।’’
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেব খান বলেন, ‘‘অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীকে দ্রুত উদ্ধারের জন্য জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









