বরিশালের উজিরপুরে শাপলা বিলে বন্ধুদের সঙ্গে বনভোজনে গিয়ে পানিতে ডুবে রাকিবুল ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে উপজেলার সাতলা শাপলা বিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ ভ্রমণে এসে মুহূর্তেই সব উৎসব বিষাদে রূপ নেয়।
নিহত রাকিবুল ইসলাম পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলার জলাবাড়ি ইউনিয়নের মাদ্রা গ্রামের দিনমজুর আব্দুল হালিম মিয়ার ছেলে। তিনি নেছারাবাদ শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বনভোজন উপলক্ষে নেছারাবাদ এলাকা থেকে প্রায় ৩০ জন স্কুল-কলেজ পড়ুয়া যুবক ভোররাতে ট্রলারে করে উজিরপুরের সাতলা শাপলা বিলের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সকালে তারা স্থানীয় জনতা বাজার এলাকায় বড় ট্রলারটি রেখে তিনটি ছোট ডিঙি নৌকায় ভাগ হয়ে বিলের ভেতরের দিকে ঘুরে দেখতে যান।
প্রত্যক্ষদর্শী মো. এস এম ইউসুফুর রায়হান জানান, নৌকায় ঘুরে বেড়ানোর একপর্যায়ে বিলের লাল শাপলা দেখে মুগ্ধ হয়ে রাকিবুল প্রথমবার পানিতে ঝাঁপ দেন এবং সাঁতরে আবার নৌকায় উঠে আসেন। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পর শাপলা তোলার জন্য তিনি দ্বিতীয়বার পানিতে লাফ দেন। তবে এবার লাফ দেওয়ার পর তিনি আর পানির ওপরে ভেসে ওঠেননি, মুহূর্তেই তলিয়ে যান।
রাকিবকে পানির নিচে তলিয়ে যেতে দেখে সঙ্গে থাকা বন্ধুরা চিৎকার শুরু করেন। পরবর্তীতে বন্ধুদের আকুতি ও স্থানীয়দের সহায়তায় বিলে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। বেশ কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর তাকে পানির নিচ থেকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জলাবাড়ি ইউনিয়নের ইউপি সদস্য সদানন্দ মণ্ডল বলেন, ‘‘রাত তিনটার দিকে আমাদের এলাকার একদল যুবক বনভোজনের উদ্দেশ্যে সাতলা শাপলা বিলে যায়। শাপলা তুলতে গিয়ে রাকিবুল দ্বিতীয়বার পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার পর আর উঠতে পারেনি। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’’
ঘটনার বিষয়ে উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পর্যটন এলাকায় ভ্রমণের সময় সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানাই। বিশেষ করে যারা সাঁতার জানেন না, তারা যেন নৌকাভ্রমণের সময় অবশ্যই নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে চলেন।’’
একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা দিনমজুর পিতা আব্দুল হালিম। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবার, বন্ধু ও পুরো মাদ্রা গ্রামে এখন গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









