রাজশাহীর পদ্মা নদীতে ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ছয়জন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাবা ও ছেলে নিখোঁজ রয়েছেন।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে পদ্মা নদীর মাঝামাঝি স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন মো. আফছার আলী এবং তার ছেলে মো. জিয়ারুল হক। তাদের বাড়ী শ্যামপুর বালুরঘাট কাটাখালী থানা এলাকায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহীর চর মাজারদিয়া এলাকা থেকে ৮ জন যাত্রী এবং ঝাউগাছ বোঝাই করে ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকা লালন শাহ মুক্তমঞ্চের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। নৌকাটি মাঝনদীতে পৌঁছালে অতিরিক্ত ঢেউয়ের কবলে পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পানিতে তলিয়ে যায়।
নৌকাটি ডুবতে দেখে পদ্মা গার্ডেন এলাকায় নদীর তীরে অপেক্ষমাণ অন্যান্য নৌকার মাঝি এবং স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা দ্রুত উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। তাদের তাৎক্ষণিক সহায়তায় পানিতে হাবুডুবু খেতে থাকা ৮ যাত্রীর মধ্যে ৬ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে মুহূর্তের মধ্যেই নদীর স্রোতে তলিয়ে যান আফছার আলী ও তার ছেলে জিয়ারুল।
ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে তাদের উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।
রাজশাহী সদর ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মুঞ্জিল হক জানান, পদ্মা নদীতে জেগে ওঠা চরে ঘাস কাটতে গিয়েছিলেন তারা। কাজ শেষে একটি নৌকায় করে ফেরার সময় মাঝ নদীতে প্রবল স্রোতের মধ্যে নৌকাটি ডুবে যায়। নৌকায় একজন নারীসহ মোট আটজন আরোহী ছিলেন।
তিনি জানান, নৌকাডুবির পর ছয়জন সাঁতার কেটে তীরে উঠতে সক্ষম হন। তবে কাউসার ও তাঁর ছেলে জিয়ারুল নদীর পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হন।
মুঞ্জিল হক আরো বলেন, খবর পেয়ে দুপুর পৌনে ২টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ডুবুরি দল নিখোঁজ দুজনকে উদ্ধারে কাজ করছে। তবে নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।
সর্বশেষ খবর বিকেল সাড়ে ৬ টা পর্যন্ত নিখোঁজ বাবা-ছেলের সন্ধান মেলেনি। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









