টাঙ্গাইলের কালিহাতী এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের পাইলিংয়ের সময় তিতাস গ্যাসের প্রধান সঞ্চালন পাইপলাইনে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। উচ্চ চাপের গ্যাস বিকট শব্দে বের হতে থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে মহাসড়কে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে। এতে উত্তরবঙ্গমুখী লেনে প্রায় ঘণ্টাব্যাপি যানজটের সৃষ্টি হয়।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকাল ৪টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, চার লেন মহাসড়ক প্রকল্পের আওতায় ফ্লাইওভার নির্মাণের জন্য পাইলিংয়ের কাজ চলছিল। ভারী যন্ত্র দিয়ে পাইল বসানোর একপর্যায়ে মাটির নিচে থাকা গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইনে আঘাত লাগে। এতে পাইপে ফাটল সৃষ্টি হয়ে উচ্চচাপের গ্যাস দ্রুত বাইরে বের হতে শুরু করে। বিকট শব্দের পাশাপাশি চারদিকে গ্যাসের তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ব্যবসায়ী, যাত্রী ও পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এসময় এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকার বেশ কয়েকটি দোকান সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। নিরাপত্তার স্বার্থে আগুন জ্বালানো ও ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়।
এই খবর পেয়ে কালিহাতী থানা পুলিশ, এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও তিতাস গ্যাসের জরুরি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু করে। মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, নির্মাণকাজের সময় ভূগর্ভস্থ ইউটিলিটি লাইনের অবস্থান নির্ধারণ ও সমন্বয়ের বিষয়টি আরো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দ্রুত পদক্ষেপের ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিমত।
তিতাস গ্যাস টাঙ্গাইল অফিসের সহকারী প্রকৌশলী রমজান আলী বলেন, গ্যাসের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইনের মেরামত চলছে। কাজ শেষ করতে সারারাত সময় লাগতে পারে। মেরামত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এই লাইনের সঙ্গে সংযুক্ত ৬টি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার বলেন, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। দ্রুত গ্যাস নিষ্কাশন ও লিকেজ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রশাসন পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সম্ভাব্য অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণ এড়াতে সতর্ক অবস্থানে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি তিতাস গ্যাসের প্রকৌশলীরা ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইন মেরামতের কাজ শুরু করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









