বরগুনার পাথরঘাটায় জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি, টেকসই জীবিকা উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব মৎস্যচাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ১১৩টি পুকুরে চার লক্ষাধিক জলবায়ু-সহনশীল মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর হাড়িটানা মোল্লাবাড়ি মসজিদসংলগ্ন একটি কৃষকের পুকুরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। রয়্যাল ড্যানিশ এম্বাসির অর্থায়নে ব্র্যাকের ক্লাইমেট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইনোভেশন প্রোগ্রামের ‘রেইন ফর লাইফ’ প্রকল্পের উদ্যোগে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।
এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন পাথরঘাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ছগির আলম। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাথরঘাটা প্রেস ক্লাবের সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী, উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও জলবায়ু গবেষক শফিকুল ইসলাম খোকন,হাঁড়িটানা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উৎপল কুমার মিত্র মিন্টু এবং ব্র্যাকের ‘রেইন ফর লাইফ’ প্রকল্পের অপারেশন ম্যানেজার কৃষিবিদ মো. আসাদুজ্জামান। এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং অর্ধশতাধিক মৎস্যচাষি ও কৃষক-কৃষাণী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হক বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় জলবায়ু-সহনশীল মাছের চাষ সময়ের দাবি। সঠিক প্রজাতি নির্বাচন, বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন বৃদ্ধি ও টেকসই মৎস্যচাষ সম্ভব। তিনি এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য ব্র্যাককে ধন্যবাদ জানান এবং মৎস্যচাষিদের সরকারি প্রযুক্তিগত পরামর্শ গ্রহণের আহ্বান জানান।”
সভাপতির বক্তব্যে মো. ছগির আলম বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে জলবায়ু-সহনশীল মৎস্যচাষ খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানুষের আয় বৃদ্ধি এবং বিকল্প জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করবে। তিনি এ ধরনের উদ্যোগে স্থানীয় মৎস্যচাষিদের আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।”
ব্র্যাকের ‘রেইন ফর লাইফ’ প্রকল্পের অপারেশন ম্যানেজার কৃষিবিদ মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি, টেকসই মৎস্যচাষের প্রসার এবং স্থানীয় জলাশয়ের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। এর ফলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জলবায়ু-সহনশীল জীবিকা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। তিনি বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রার পরিবর্তন এবং পানির প্রাপ্যতার সংকটের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জলবায়ু-সহনশীল মাছের চাষ একটি কার্যকর অভিযোজন কৌশল।
ব্র্যাক সূত্রে জানা যায়, রেইন ফর লাইফ’ প্রকল্পের আওতায় পাথরঘাটা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ১১৩ জন নির্বাচিত কৃষকের প্রায় ৪২ বিঘা আয়তনের পুকুরে মোট চার লক্ষাধিক মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ৮০০টি মনোসেক্স তেলাপিয়া, ২ লাখ ৬০ হাজার ৪০০টি নোনা টেংরা এবং ২৪ হাজার ২০০টি তারা বাইমের পোনা।
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল মৎস্যচাষের প্রসার ঘটবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আয়, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় তাদের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









