শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় একটি বসতবাড়ির টয়লেটের ছাদে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণে টয়লেটের ছাদের কিছু অংশ ভেঙে পড়ে এবং ওপরের পানির ট্যাংক উড়ে আরেক স্থানে গিয়ে পড়ে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। একদিন পার না হতেই আবারও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা এটি। গতকাল বিলাসপুর ইউনিয়নে এক প্রবাসীর বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে উপজেলার বি কে নগর ইউনিয়নের কদম আলি মাদবর কান্দি গ্রামের জব্বার মাদবরের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর বিকট শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা এসে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটিতে ভিড় জমায়।
ঘটনার খবর পেয়ে জাজিরা থানা পুলিশের একটি তদন্ত টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিস্ফোরণের স্থান পরিদর্শন করে। তারা আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি কী ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে, কীভাবে এটি সেখানে পৌঁছেছে এবং এর পেছনে কারা জড়িত থাকতে পারে, তা খতিয়ে দেখছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, একদিন আগে বিলাসপুর ইউনিয়নে মালয়েশিয়া প্রবাসী মো. আলী উজ্জামাল হাওলাদারের বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংকে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় সেপটিক ট্যাংকের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে ককটেলের আলামত উদ্ধার করে পুলিশ। সেই ঘটনার একদিন পার না হতেই বি কে নগর ইউনিয়নে আবারও বিস্ফোরণের ঘটনায় জনমনে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে জাজিরার বিলাসপুর ইউনিয়নে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ, কবরস্থান থেকে বিপুলসংখ্যক তাজা ককটেল উদ্ধার, বিস্ফোরণে প্রাণহানি এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শতাধিক ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ একদিনের ব্যবধানে দুটি পৃথক ইউনিয়নে বিস্ফোরণের ঘটনায় পুরো জাজিরায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে একই চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
এ বিষয়ে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ্ আহম্মদ বলেন, ‘‘খবর পেয়ে জাজিরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাস্থলের অবস্থা দেখে মনে হয়েছে আগে থেকেই বোমা মজুত রাখা ছিলো সেখানে। ধারণা করা হচ্ছে রোদের তাপে গরমে হয়তো বিস্ফোরিত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। কীভাবে বিস্ফোরকটি সেখানে এলো এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা গুরুত্বের সঙ্গে নজরদারি ও তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









