পাবনার চাটমোহর রাজাচন্দ্র নাথ ও বাবু শম্ভুনাথ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের (বর্তমানে জাতীয়করণকৃত) অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও জাতীয়ভাবে ‘শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক’ জনাব ফসি উদ্দিন আহমদ আজও অনুপ্রেরণার নাম। প্রায় শতবর্ষ বয়সেও তিনি খালি চোখে দৈনিক পত্রিকা ও পবিত্র কোরআন পাঠ করেন, যা বিস্মিত করছে তার শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীদের।
দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি জাতীয়ভাবে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হন। সেই সম্মাননার অংশ হিসেবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার হাতে ‘গোল্ড মেডেল’ তুলে দেন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে নিজ বাসভবনে তাকে মনোযোগ দিয়ে পত্রিকা পড়তে দেখা যায়। বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়লেও তার দৃষ্টিশক্তি এখনো স্বাভাবিক রয়েছে।
ফসি উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘‘বয়সের কারণে এখন আর বাইরে তেমন যাওয়া হয় না। বাইরে গেলে শারীরিকভাবে কষ্ট হয়। তবে মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে এখনো খালি চোখেই পত্রিকা ও পবিত্র কোরআন শরীফ পড়তে পারি। ছেলেমেয়েরা চশমা কিনে দিয়েছে, কিন্তু চশমা পরলে বরং অস্বস্তি লাগে।’’
তার প্রাক্তন শিক্ষার্থী রমেশ মজুমদার বলেন, ‘‘তিনি আমার বাবারও শিক্ষক, আমারও শিক্ষক। ছোটবেলা থেকেই তাকে এমনই দেখছি। স্যার নিরিবিলি থাকতে পছন্দ করেন, অযথা আড্ডা বা বাইরে সময় কাটানো তার স্বভাব নয়। আমরা তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।’’
চাটমোহর রাজাচন্দ্র নাথ ও বাবু শম্ভুনাথ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, ‘‘আমি এই বিদ্যালয়েরই ছাত্র ছিলাম। ছাত্রজীবনে স্যারের কাছে পড়েছি। পরে এই বিদ্যালয়েই শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি। যোগদানের কিছুদিন পরই স্যার অবসরে যান। একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে তিনি আমাদের জন্য অনুকরণীয়।’’
দীর্ঘ কর্মজীবনে ফসি উদ্দিন আহমদ শুধু একজন সফল প্রধান শিক্ষকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তার হাত ধরে গড়ে ওঠা অসংখ্য শিক্ষার্থী বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মতে, বয়সের ভার তাকে নত করলেও জ্ঞানের প্রতি তার আগ্রহ, মানসিক প্রখরতা এবং নিয়মিত পাঠাভ্যাস নতুন প্রজন্মের জন্য অনুসরণীয় উদাহরণ। তারা এই প্রবীণ শিক্ষাগুরুর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও নেক হায়াত কামনা করেছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









