বিয়ের দাবীতে প্রেমিকের বাড়িতে ২৪ ঘণ্টা অনশনের পর বিয়ে ছাড়াই ফিরলেন তরুণী প্রেমিকা। এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ। প্রেমিকা সুমি আক্তার (২৮) একটানা ২৪ ঘণ্টা প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবীতে অনশনে বসেছিলেন। একপর্যায়ে বিয়ে ছাড়াই অনশন ভেঙে নিজ বাড়িতে ফিরে যান।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের শিংলাবো এলাকায় তিনি নাঈম মিয়া নামক প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করেছেন।
অনশনে বসা সুমি আক্তার নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকার শহিদুল ইসলামের মেয়ে। আর প্রেমিক নাঈম মিয়া সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের শিংলাবো এলাকার হেলাল মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় ও তরুণীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সাল থেকে সুমি ও নাঈমের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ওই সময় নাঈম তাকে বিয়ের আশ্বাস দেন। তবে, সম্পর্ক দুই বছর গড়ালেও সম্প্রতি বিয়ের বিষয়ে প্রেমিক নাঈম পিছিয়ে গেলে বাধ্য হয়ে ওই তরুণী গতকাল সকালে প্রেমিকের বাড়িতে এসে অনশনে বসেন। এরপর পারিবারিক সিদ্ধান্তে শনিবার নিজ বাড়িতে ফিরে যান।
অনশনকালে সুমি আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ‘দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পরও নাঈম বিয়ের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছেন না। তাই বিয়ের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন চালিয়ে যাবেন।’
এ বিষয়ে সুমির মামাতো ভাই শরিফ জানান, দুই বছর পূর্বে প্রথমে পারিবারিকভাবে বিয়ের জন্য উভয় পরিবার দেখাদেখি করেন এবং কথাবার্তা এগোনোর একপর্যায়ে ছেলের পরিবার নগদ ৬ লাখ টাকা দাবি করেন। যা নিয়ে উভয় পরিবারের দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়ে বিয়ে থেমে গিয়েছিল। কিন্তু থামেনি তাদের যোগাযোগ।
পরে, তারা গোপনে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান এবং বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি করেন। তবে কিছুদিন আগে ছেলেটা বিয়ে করবে না বলে জানিয়ে দেন। এ নিয়ে আমরা গত বৃহস্পতিবার ছেলের বাড়িতে গিয়ে স্থানীয় মাদবরের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে বিয়ে হওয়ার সিদ্ধান্তে আসি। কিন্তু গতকাল যখন আমরা বিয়ে পড়াতে যাই তখন তারা বিয়ে হবে না বলে জানান। একপর্যায়ে আমার বোন অনশনে বসে। আমরা বিষয়টির জন্য পুলিশের কাছে গিয়েও সহযোগিতা পাইনি।
অনশন সম্পর্কে প্রেমিক নাঈমের পিতা হেলাল মিয়া বলেন, ‘গতকাল থেকে মেয়ে আমাদের বাসায় অনশনে ছিল। আজ তার পরিবারের সদস্যরা নিজ বাড়িতে নিয়ে গেছেন। এ বিয়ে যেহেতু হবে না সেহেতু তারা বিষয়টি বুঝে মেয়েকে নিয়ে চলে গেছেন।’
এ বিষয়ে জানতে প্রেমিক নাঈমের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
উপজেলার তালতলা বাজার তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, অনশনের ঘটনা আমি অবগত আছি, কিন্তু কেউ অভিযোগ করেনি।
তরুণীর পরিবার পুলিশের দ্বারস্থ হওয়া সত্ত্বেও অসহযোগিতার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মেয়ে ছেলের সঙ্গে দুই বছর ধরে সম্পর্ক করে গেছেন, যা উভয় পরিবারের সদস্যরা জানতেন। একপর্যায়ে তা অনশন পর্যায়ে গেছে। সেখানে আমাদের করনীয়টা কি? তারা মামলা করলে আমরা সহযোগিতা করবো।
সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি বিষয়টি অবগত ছিলাম না। তালতলা ফাঁড়ির ইনচার্জের সঙ্গে আলাপ করে মাত্র জেনেছি।’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









