তালাকের পরও আতঙ্কের ছাপ কাটছে না বরগুনার পাথরঘাটার বাসিন্দা মিতু শারমিনের জীবনে। দুই সন্তানকে নিয়ে শান্তিতে বাঁচার আকুতি জানিয়ে সাবেক স্বামী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন, হুমকি এবং সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অভিযোগ এনেছেন এই নারী।
রোববার (২ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বরগুনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে কান কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন মিতু শারমিন। সংবাদ সম্মেলনে তার দুই সন্তান, ছোট বোন মহিমা আক্তার, মা ও ফুফু উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মিতু শারমিন অভিযোগ করে বলেন, বৈবাহিক জীবন চলাকালীন সাবেক স্বামী রফিকুল ইসলাম ও তার ভাই দীর্ঘদিন ধরে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়েছেন। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে তিনি তালাক দিলে ক্ষুব্ধ হয়ে রফিকুল তার বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।
তিনি আরও জানান, সংসার চলাকালে খোরপোষের টাকা থেকে সঞ্চয় করে দুই ছেলের নামে কেনা আড়াই শতক জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, তার ব্যক্তিগত ছবি বিকৃত (এডিট) করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে তাকে ও তার পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চালাচ্ছে একটি প্রভাবশালী চক্র।
এমনকি সম্প্রতি পাথরঘাটা থানার সামনেও সাবেক স্বামী ও তার সহযোগীরা তাদের ওপর সরাসরি হামলার চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ করেন মিতু শারমিন। পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের হস্তক্ষেপে তারা রক্ষা পান এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা এই নারী আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, “আমি আমার দুই সন্তানকে নিয়ে নিরাপদে বাঁচতে চাই। আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম বা তার পরিবারের কারো সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









