ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদ এবং সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহসহ ৭ দফা দাবিতে বরগুনায় বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) বরগুনা জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
দক্ষিণাঞ্চলের পায়রা ও তালতলী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চাহিদা পূরণ হলেও স্থানীয় ১০ লক্ষাধিক মানুষ মারাত্মক বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছেন বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।
বরগুনা জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, জেলার ১০ লক্ষাধিক মানুষ বর্তমানে মানবেতর বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। দিনের অধিকাংশ সময়ই বিদ্যুৎ থাকে না এবং ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন ও ব্যবসা-বাণিজ্য বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
বক্তারা বলেন, পটুয়াখালীর পায়রা এবং বরগুনার তালতলী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে পরিবেশের ক্ষতি করে কয়লা পুড়িয়ে প্রায় ১০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। অথচ পরিবেশগত ও সামাজিক এই ক্ষতির শিকার হয়েও বরগুনাবাসী তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। স্থানীয় চাহিদা যেখানে অনেক বেশি, সেখানে বরগুনায় সরবরাহ করা হচ্ছে চাহিদার মাত্র ৩০ থেকে ৪০ ভাগ বিদ্যুৎ।
বঞ্চনা থেকে মুক্তির লক্ষ্যে বরগুনাবাসীর পক্ষে বিদ্যুৎ সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য ৭ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়েছে:
১. বরগুনায় সার্বক্ষণিক ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
২. গ্রাহকদের নিজেদের অর্থে কেনা মিটার থাকা সত্ত্বেও প্রতিমাসে অযৌক্তিক ডিমান্ড চার্জ আদায় বন্ধ করতে হবে।
৩. হঠাৎ করে প্রায় দ্বিগুণ করা ইউনিট চার্জ সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। তাই ইউনিট চার্জ পূর্বের ন্যায় নির্ধারণ বা পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
৪. প্রতিমাসে নিয়মিত মিটার দেখে বিল তৈরি করতে হবে; একসঙ্গে অতিরিক্ত ইউনিটের বিল করে গ্রাহকদের ভোগান্তিতে ফেলা যাবে না।
৫. মিটারবিহীন সকল অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে।
৬. বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যেকোনো ধরনের দুর্ব্যবহার ও হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
৭. বরগুনায় অবিলম্বে পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিস চালু করতে হবে।
এই ৭ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি প্রধানমন্ত্রী বরাবর পাঠানোর পাশাপাশি এর অনুলিপি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ও সচিব, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ এবং বরগুনা-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্যের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
বরগুনা জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম ডি আনিসুর রহমান কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আজকে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আমাদের আন্দোলন শুরু হলো। আমরা এক সপ্তাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করব। এই সময়ের মধ্যে অবস্থার উন্নতি না হলে বিদ্যুৎ অফিস অচল করে দেওয়া হবে। যে অফিস জনগণের চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হয়, সেই অফিস বরগুনাবাসীর প্রয়োজন নেই। জনরোষ এড়াতে নিজ দায়িত্বে পরিস্থিতির উন্নতি করুন।”
'ধরিত্রি রক্ষায় আমরা'-এর আহ্বায়ক মুসফিক আরিফ বলেন, এটি বরগুনার সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন, কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়। আমরা সবসময় অহিংস উপায়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের অধিকার আদায় করতে বিশ্বাসী।”
ওজোপাডিকো (পশ্চিম অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমিনুর রহমান জানান, বর্তমানে বরগুনা শহরে তাদের বিদ্যুতের চাহিদা ৬ মেগাওয়াট হলেও তারা পাচ্ছেন মাত্র সাড়ে তিন মেগাওয়াট। এই ঘাটতির কারণেই মূলত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
একইভাবে পল্লী বিদ্যুতের ক্ষেত্রেও ৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে মাত্র সাড়ে তিন থেকে চার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান এটি একটি জাতীয় সমস্যা। তিনি সংকট উত্তরণে গ্রাহকদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









