ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, “জুলাই সনদ নিয়ে কোনো ধরনের প্রতারণা, চক্রান্ত বা আপসের রাজনীতি জনগণ মেনে নেবে না। ছাত্র-জনতার রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই ঐতিহাসিক অর্জনকে বিতর্কিত বা ক্ষুণ্ন করার যেকোনো প্রচেষ্টার পরিণতি শুভ হবে না।”
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বরিশাল মহানগর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উদ্যোগে নগরীর টাউন হল চত্বরে আয়োজিত গণমিছিল-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, “গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে দেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে হলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, ন্যায়বিচার এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সব রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করারও আহ্বান জানাই।”
দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান অস্থিরতার প্রসঙ্গ টেনে ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে সব ধরনের সহিংসতা, সংঘর্ষ এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। শিক্ষাঙ্গনকে রাজনৈতিক সহিংসতার ক্ষেত্র নয়, জ্ঞানচর্চা ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনের নিরাপদ পরিবেশে পরিণত করতে হবে।”
বরিশাল মহানগর ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি প্রফেসর মুহাম্মাদ লোকমান হাকিমের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মাওলানা আবুল খায়ের আশরাফীর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন মহানগরের সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা জাকারিয়া হামিদী, মাওলানা লুৎফর রহমান, মুহাম্মাদ জাকির হোসেন কাফরা, জয়েন্ট সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল আজিজ, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মাওলানা নাসির উদ্দীন নাইস, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল মহানগর শাখার সভাপতি সৈয়দ নাসির আহমদ কাউসার, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবু জাফর, ইসলামী আইনজীবী পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল্লাহ নাসের, ইসলামী যুব আন্দোলনের সভাপতি হাফেজ মাওলানা রেজাউল করিম, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের বরিশাল মহানগর সভাপতি মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এস. এম. হাসিবুল্লাহ এবং সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ শাখার সভাপতি মুহাম্মাদ ইমাম হাসানসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা একটি গণমিছিল বের করেন। মিছিলটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় টাউন হল চত্বরে এসে শেষ হয়। এ সময় গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার আহ্বান জানানো হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









