জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) অনুমতি ছাড়াই পাবনার সুজানগর উপজেলার নাজিরগঞ্জে পদ্মা নদীতে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ‘খেয়া নৌকা’ চলাচল ও টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। উত্তাল পদ্মায় এভাবে যাত্রী পারাপারে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাবনার নাজিরগঞ্জ ও রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া ঘাটের মধ্যে প্রতিদিন শত-শত মানুষ ‘খেয়া’ নৌকায় পদ্মা নদী পার হচ্ছেন। একইপথে সরকারি ফেরি ও স্পিডবোট চলাচল করলেও অবৈধভাবে চলাচল করা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় যাত্রী পরিবহন বন্ধ হয়নি। যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে জনপ্রতি ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত টোল।
স্থানীয় ইসমাইল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তির সহযোগিতায় কোনো বৈধ অনুমোদন বা কার্যকর ইজারা ছাড়াই খেয়াঘাট পরিচালনা করছে।’’
এ কার্যক্রমকে বিআইডব্লিউটিএ অবৈধ উল্লেখ করে ইতোমধ্যে পাবনার জেলা প্রশাসকের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। তবে জেলা প্রশাসন বলছে, কারা যাত্রী পারাপারের নামে টোল আদায় করছে, সে বিষয়ে তাদের কাছে নির্দিষ্ট তথ্য নেই।
নাজিরগঞ্জ কলেজে অধ্যক্ষ এস এম মাহবুব আলম বলেন, ‘‘বর্ষার ভরা মৌসুমে পদ্মা নদী অত্যন্ত উত্তাল থাকে। এ অবস্থায় ইঞ্জিনচালিত ছোট নৌকায় যাত্রী পারাপার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে ‘’
খেয়া পার হওয়ার সময় রাজবাড়ীর সালথা উপজেলার সেকেন্দার আলী বলেন, ‘‘শাহজাদপুরে এসেছিলাম। এদিক দিয়ে রাস্তা শর্টকাট হওয়ায় ঝুঁকি নিয়েই পার হতে হচ্ছে। সারাদিনে ফেরি চলে মাত্র কয়েকবার। এত সময় অপেক্ষা করলে তো সমস্যা।’’
এ সময় সাত বছরের কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের উদ্দেশে যাওয়া আরেক যাত্রীও সময় বাঁচানোর জন্য ঝুঁকি নিয়ে খেয়ায় পার হওয়ার কথা জানান।
বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ এপ্রিল নাজিরগঞ্জে অবৈধ খেয়াঘাট বন্ধে পাবনা জেলা প্রশাসককে চিঠি দেওয়া হয়। এর জবাবে গত ১৪ মে জেলা প্রশাসক জানান, অবৈধ খেয়াঘাট সম্পর্কে তারা অবগত নন।
এদিকে, গত ১৭ জুলাই নাজিরগঞ্জ খেয়াঘাটসংক্রান্ত একটি রিট মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব বিষয় উপেক্ষা করেই নাজিরগঞ্জ নদীবন্দরের সীমানার মধ্যে যাত্রী পারাপারের নামে অবৈধভাবে টোল আদায় করা হচ্ছে।
ঘাটে টোল আদায়কারীদের দাবি, স্থানীয় বিএনপি নেতা ডা. আবদুল সালামের নির্দেশনায় তারা ঘাট পরিচালনা করছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. আবদুল সালাম বলেন, ‘‘সাধারণ যাত্রীদের পারাপারের সুবিধার জন্য যারা নৌকার মালিক, তারা এই খেয়াঘাট চালাচ্ছেন। এটা আমি লাগাইনি। আমার কি কোনো এখতিয়ার আছে যে আমি সেখানে ঘাট লাগাব?’’
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর নাজিরগঞ্জ নৌবন্দরের সহকারী বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা গাজী মো. আব্দুল মোতালিব বলেন, “কে বা কারা নৌকার মাধ্যমে অবৈধভাবে যাত্রী পারাপার এবং টোল আদায় করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক বরাবর আমরা পত্র দিয়েছি। সেই পত্রের উত্তরে জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, তারা এই টোল বা যাত্রী পারাপারে কোনো অনুমতি দেননি।’’
পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘‘জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য সরকার দায়বদ্ধ। আমরা খুব শিগগিরই স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় বাস্তবিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
স্থানীয়দের দাবি, পদ্মার ভরা মৌসুমে দুর্ঘটনা এড়াতে অবিলম্বে অনুমোদনহীন নৌকায় যাত্রী পারাপার ও টোল আদায় বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









