সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে হতাশা প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। এসএসসিতে উপজেলায় গড় পাসের হার ৬৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ, যা গত বছরের ৭৭ দশমিক ৮০ শতাংশের তুলনায় ১৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ কম।
উপজেলার ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবার ৯৫৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ৬০৬ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ৩৪৯ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ জন। এর মধ্যে পাগলা সরকারি মডেল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের পাঁচজন, জয়কলস উজানীগাঁও রশিদিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের তিনজন এবং সুরমা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ ও পঞ্চগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে।
অন্যদিকে, উপজেলার সাতটি মাদ্রাসা থেকে ২৬০ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৪৮ জন পাস করেছে। পাসের হার ৫৬ দশমিক ৯২ শতাংশ, যা গত বছরের ৬০ দশমিক ৬৯ শতাংশের তুলনায় কম। এবার দাখিলে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি।
অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অনাগ্রহ, মোবাইল ফোনে আসক্তি, অভিভাবকদের পর্যাপ্ত তদারকির অভাব এবং কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদানের মান নিয়ে প্রশ্ন থাকায় ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
দামোধরতপী গ্রামের অভিভাবক শাহিন আহমেদ বলেন, শিক্ষার্থীরা আগের মতো পড়াশোনায় মনোযোগী নয়। অভিভাবকদের সচেতনতার ঘাটতির পাশাপাশি শিক্ষকদের পাঠদান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তদারকির বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অভিভাবক তাছলিমা বেগম বলেন, মোবাইল আসক্তি ও পড়াশোনার প্রতি অনীহা শিক্ষার্থীদের ফলাফলে প্রভাব ফেলছে। শিক্ষকদের আরও আন্তরিকতা ও নিয়মিত তদারকি থাকলে ফলাফল ভালো হতে পারত।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ইসলাম উদ্দিন বলেন, পিছিয়ে থাকা একটি উপজেলার জন্য এই ফল খারাপ নয়। গত বছরের তুলনায় জিপিএ-৫ বেড়েছে। তবে উন্নতির অনেক সুযোগ রয়েছে। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









