কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার নলকুলা গ্রামে পাটিকাবাড়ী ইউনিয়ন কৃষকদলের কার্যালয় ভাঙচুর, মামলা, আসামি গ্রেপ্তার ও পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে ‘অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) ফয়সাল মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে ‘মব’ তৈরির যে খবর প্রচারিত হয়েছে, তা সঠিক নয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিনের নেতৃত্বে কৃষকদলের কার্যালয় ভাঙচুরকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশের অনুসন্ধানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওই কার্যালয় ভাঙচুরের তথ্য পাওয়া গেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
রুহুল আমিন ইবি থানায় মামলা করতে গিয়েছিলেন—এমন প্রচারও সঠিক নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া মামলার এজাহার মনগড়া এবং বাদীর বক্তব্য নেওয়া হয়নি—এমন অভিযোগও খণ্ডন করে পুলিশ জানায়, বাদী স্বজ্ঞানে এজাহার পড়ে বুঝে-শুনে স্বাক্ষর করেই মামলা করেছেন।
নূরজাহান বেগমকে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার করে পরিবারকে না জানিয়ে গুম করে রাখার অভিযোগ প্রসঙ্গে পুলিশ জানায়, ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৬টায় পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তার নিজ বাড়ি থেকে তাকে আইনানুগভাবে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন বেলা ১টা ৪৫ মিনিটে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। তিনি মামলার এজাহারনামীয় আসামি না হলেও ভাঙচুরের ঘটনায় তার সরাসরি ও পরোক্ষ সহায়তার সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ পাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে এর আগে মারামারি ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে চারটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেও তাকে কোনো মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়নি।
ঘটনায় পুলিশের সহযোগিতার অভিযোগও সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছে জেলা পুলিশ। পুলিশ জানায়, খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ঘটনার দিন ছাড়া পরবর্তীতে এলাকায় নতুন করে কোনো ভাঙচুর বা লুটপাটের ঘটনা ঘটেনি।
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ জানিয়েছে, তারা প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে থাকে। বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দিয়ে সত্যভিত্তিক সংবাদ পরিবেশনে সাধারণ মানুষ ও সংবাদকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেছে পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ বলেন, নলকুলা গ্রামের উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকৃত বস্তুনিষ্ঠ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









