বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনার ভাঙনে ঝুঁকিতে পড়েছে হাসনাপাড়া স্পার।
বৃহস্পতিবার ভোর থেকে স্পারের একটি অংশে হঠাৎ ভাঙন তীব্র হয়ে উঠেছে। এতে স্পারের মাটি ধসে পড়ার পাশাপাশি সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য লাগানো একটি বটগাছ মাটি ও শিকড়সহ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের কারণে স্পারের সঙ্গে সংযুক্ত চলাচল সড়কও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে স্পারের একাংশে মাটি সরে যেতে দেখা যায়। পরে নদীর স্রোতের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতাও বাড়তে থাকে। অল্প সময়ের মধ্যেই স্পারের পাড়ের মাটি ধসে নদীতে পড়তে শুরু করে। একপর্যায়ে স্পারের সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে থাকা একটি বটগাছও ধসে পড়া মাটির সঙ্গে নদীতে চলে যায়।
ভাঙনের দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে স্পারের আরও অংশ নদীগর্ভে চলে যেতে পারে। একই সঙ্গে স্পারের সঙ্গে থাকা চলাচল সড়কের সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্থানীয়দের যাতায়াতেও বড় ধরনের ভোগান্তি তৈরি হতে পারে।
স্থানীয়রা আরো জানান, হাসনাপাড়া স্পারটি এলাকার মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা। এর সঙ্গে সংযুক্ত সড়ক দিয়ে স্থানীয়দের চলাচল রয়েছে। ফলে স্পারের ভাঙন শুধু একটি স্থাপনার ক্ষতি নয়, এর প্রভাব আশপাশের যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপরও পড়তে পারে। এ কারণে ভাঙন দেখা দেওয়ার পর থেকেই দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ভাঙন সামাল দিতে ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করেছে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড। আপাতত জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। নদীর স্রোতের চাপ ও মাটি সরে যাওয়ার প্রবণতা বিবেচনায় নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধের কাজ চলছে। তবে স্পারের সঙ্গে চলাচল সড়কের স্থায়ী ও টেকসই সংযোগ স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে পরবর্তী উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীভাঙন শুরুর পর সাময়িক ব্যবস্থা দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান না হলে ফের ভাঙনের ঝুঁকি থেকে যাবে।
তাদের মতে, স্পারের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত পরিদর্শন করে নদীর স্রোত ও ভাঙনের গতিপ্রকৃতি বিবেচনায় নিয়ে টেকসই প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
স্থানীয়রা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে ভাঙন আরও বিস্তৃত হয়ে স্পারের অবকাঠামো, সংযোগ সড়ক এবং আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই সাময়িক প্রতিরোধের পাশাপাশি দ্রুত স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মিকাইল ইসলাম জানান, ভাঙন কবলিত স্থানে ভাঙন রোধে কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। খুব দ্রুত তারা ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করবে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









