নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় বিয়ের আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নাম পরিবর্তন, দুই সন্তানের জন্মের পর ফের হিন্দু ধর্মে ফিরে গিয়ে অন্য তরুণীকে বিয়ের অভিযোগে এক যুবকের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেছেন প্রথম স্ত্রী। মামলায় অভিযুক্তের মাকেও আসামি করা হয়েছে।
অভিযুক্ত যুবক অর্জুন ধর হীরা (৩০)। তিনি খালিয়াজুরী উপজেলার শালদীঘা গ্রামের মৃত জয় কৃষ্ণ ধরের ছেলে। মামলার বাদী শিপুল আক্তার খানম (২৭) মোহনগঞ্জ পৌরশহরের দৌলতপুর এলাকার বাসিন্দা। মামলায় হীরার মা কৃষ্ণা রানী ঘোষ (৫৮)-কেও আসামি করা হয়েছে।
মামলাটি ২০ জুলাই নেত্রকোনা সদর আমলি আদালতে করেন শিপুল। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বাদীপক্ষের আইনজীবী মোশারফ হোসেন শুভ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলার অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দৌলতপুর এলাকায় বসবাসের সময় শিপুলের সঙ্গে হীরার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৪ সালে অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিজের নাম মো. হীরা মিয়া রাখেন তিনি। পরে শিপুলকে বিয়ে করেন।
২০১৫ সালে তাদের একটি কন্যাসন্তান এবং ২০২২ সালে একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। সন্তানদের নাম জান্নাতুল হিয়া ও আব্দুল্লাহ। শিপুলের দাবি, মুসলিম পরিচয়ে থাকার সময় হীরা নামাজ-রোজাও পালন করতেন। তবে নানা অজুহাতে তাদের বিয়ের কাবিননামা নিবন্ধন করেননি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, দ্বিতীয় সন্তান জন্মের পর ২০২২ সালে হীরা তার মা কৃষ্ণা রানীর প্ররোচনায় আবার হিন্দু ধর্মে ফিরে যান। এরপর পাশের এলাকার এক হিন্দু তরুণীকে গোপনে বিয়ে করেন বলে অভিযোগ শিপুলের। বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিবাদ করলে তাকে যৌতুকের দাবিতে মারধর এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয় বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
স্বামীর বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়ে ২০২৫ সালের ২০ মে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে অভিযোগ করেন শিপুল। পরে উভয় পক্ষের সম্মতিতে ওই বছরের ৪ জুন নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে আপসনামা ও অ্যাফিডেভিট করা হয়। সন্তানদের পড়াশোনার ব্যয় বহন, জমি কিনে বাড়ি নির্মাণসহ কয়েকটি শর্ত এতে উল্লেখ ছিল। তবে এসব শর্তের কোনোটিই পূরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন শিপুল।
শিপুল খানম বলেন, স্বামী ও শাশুড়ি যোগসাজশ করে তার সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে প্রতারণা করেছেন। দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি উদ্বিগ্ন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অর্জুন ধর হীরা বলেন, ‘অনেক আগেই আমি শিপুলকে ডিভোর্স দিয়েছি। এরপর আমি কী করব, সেটা তার জানার বিষয় নয়।’
নেত্রকোনা পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জামান আলী বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









