বোর্ড নির্ধারিত ফি দেওয়ার পরও অ্যাডমিট কার্ড, ব্যবহারিক পরীক্ষা, মার্কশিট ও সনদপত্রের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং 'প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ' ফুটবল খেলার মাঠ পরিবর্তনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরাদি ইউনিয়নের ফজলুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনিছুর রহমান হাওলাদারের স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। পরে তারা বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানায়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত ফরম পূরণ বাবদ ফি পরিশোধ করার পরও অ্যাডমিট কার্ড প্রদান, ব্যবহারিক পরীক্ষা, নম্বরপত্র (মার্কশিট) এবং মূল সনদ দেওয়ার সময়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের কাছ থেকে বেআইনিভাবে অতিরিক্ত টাকা দাবি ও আদায় করা হচ্ছে। প্রধান শিক্ষকের এসব দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মনে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছিল।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ফজলুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনিচুর রহমান হাওলাদার ও সহকারী শিক্ষক মো. নসরুল আমীন গাজীর বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের মার্কেট বরাদ্দ, ভর্তি ও ফরম পূরণ ফি, জমি-পুকুর ইজারা এবং সরকারি উন্নয়ন ফান্ডের কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাটের অভিযোগ রয়েছে।
এ সকল অভিযোগের ভিত্তিতে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য মো. মনিরুজ্জামান বাদী হয়ে ২০২৫ সালে বরিশালের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
আদালত মামলাটি বিচারে আমল নেওয়ার পর বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২১ এর ১৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উক্ত দুই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেন।
পরবর্তীতে বরখাস্তাদেশের বিরুদ্ধে ওই শিক্ষকরা হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করলে, গত ২৩ জুন ২০২৬ তারিখে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ বরখাস্তের নোটিশের ওপর ৩ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ প্রদান করেন। স্থগিতাদেশ নিয়ে প্রধান শিক্ষক পুনরায় বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই আবার বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি শুরু করেন বলে শিক্ষার্থীদের দাবি।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রশাসন পদক্ষেপ না নিলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কঠোর কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দেয় তারা।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান হাওলাদার। তিনি দাবি করেন, তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এসব মিথ্যে ও বানোয়াট অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার আমিনুল ইসলাম জানান, ফজলুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও আন্দোলনের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পুরো ঘটনাটি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









