দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পাবনা থেকে প্রথমবারের মতো চালু হতে যাচ্ছে আন্তঃনগর ‘সপ্তপদী এক্সপ্রেস’ ট্রেন। আগামী ২৯ আগস্ট ট্রেনটির যাত্রা শুরুর সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ খবরে উচ্ছ্বসিত পাবনাবাসী। দীর্ঘদিনের দাবির পর আন্তঃনগর ট্রেন চালুর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দিবাগত রাতে রেলওয়ে বিভাগের উচ্চপর্যায়ের এক সভায় ট্রেনটি চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
রেলওয়ের একটি সূত্র জানায়, আগামী ২২ আগস্ট ট্রেনটির নতুন র্যাক ভারত থেকে দেশে আসার কথা রয়েছে। এরপর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে ২৯ আগস্ট পাবনা থেকে ট্রেনটির যাত্রা শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ট্রেনটিতে মোট ১১টি কোচ থাকবে। এর মধ্যে একটি এসি বাথ ও দুটি এসি চেয়ার কোচ থাকবে। প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার যাত্রী এই ট্রেনে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন।
ট্রেনটির নাম নিয়ে এর আগে বিভিন্ন প্রস্তাব থাকলেও শেষ পর্যন্ত ‘সপ্তপদী’ নামটি নির্ধারণ করা হয়েছে।
পাবনার কৃতী সন্তান মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের স্মৃতির সঙ্গে নামটির বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। ১৯৬১ সালে উত্তম কুমার ও সুচিত্রা সেন অভিনীত কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘সপ্তপদী’র নাম অনুসারে পাবনা থেকে চালু হতে যাওয়া আন্তঃনগর ট্রেনটির নামকরণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
প্রস্তাবিত রুট অনুযায়ী, ট্রেনটি পাবনা রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে টেবুনিয়া, মাজগ্রাম জংশন, ঈশ্বরদী জংশন, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, উল্লাপাড়া, মনসুর আলী, টাঙ্গাইল হয়ে ঢাকা স্টেশনে যাতায়াত করবে। তবে ট্রেনটির সুনির্দিষ্ট ছাড়ার সময়, ঢাকায় পৌঁছানোর সময় এবং ফেরার সময় এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি।
পাবনা থেকে প্রথমবারের মতো আন্তঃনগর ট্রেন চালুর খবরে আনন্দ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ যাত্রীরা। তাদের মতে, ট্রেনটি চালু হলে পাবনা-ঢাকা যাতায়াত আরও সহজ, দ্রুত ও আরামদায়ক হবে। পাশাপাশি জেলার ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবায় এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
পাবনার মহেন্দ্রপুরের বাসিন্দা হাজী বাসের উদ্দিন বলেন, ‘‘প্রতিনিয়ত ঢাকায় যাতায়াত করতে হয় এমন মানুষের জন্য ট্রেনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সময় ও খরচ—দুই দিক থেকেই সুবিধা হবে।’’
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সৌরভ বলেন, ‘‘ঢাকায় পড়াশোনার জন্য যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদের জন্য এটি বড় সুযোগ। নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করা যাবে।’’
পাবনা শহরের ময়নামতি এলাকার বাসিন্দা হুমায়ূন রাশেদ বলেন, ‘‘পাবনার মানুষের ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ আরও দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে। আমরা চাই, ট্রেনটি নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নিয়মিত চলুক।’’
স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা মনে করছেন, সপ্তপদী এক্সপ্রেস চালু হলে পাবনার মানুষের দীর্ঘদিনের একটি দাবি পূরণ হবে। একই সঙ্গে ঢাকার সঙ্গে জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে।
পাবনাবাসীর প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ‘সপ্তপদী’ এক্সপ্রেসের যাত্রা শুরু হবে এবং ভবিষ্যতে এর সময়সূচি ও সেবার পরিধি আরও উন্নত করা হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









