ঢাকার ধামরাইয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার পরিবারের বিরুদ্ধে। বাল্যবিয়ে ঠেকাতে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেলে কনের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি জন্মনিবন্ধন দেখানো হয়। তবে ওই জন্মনিবন্ধনের তথ্যের সঙ্গে বিদ্যালয়ে সংরক্ষিত জন্মনিবন্ধনের তথ্যে গড়মিলের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে ধামরাই উপজেলার কুশুরা ইউনিয়নের নবগ্রাম এলাকায় মোশারফ হোসেনের বাড়িতে এ বিয়ের আয়োজন করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, বর হেলিকপ্টারে করে এসে ওই স্কুলছাত্রীকে বিয়ে করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোশারফ হোসেনের মেয়ে মেঘলা আক্তার কুশুরা আব্বাস আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ে জমা দেওয়া জন্মনিবন্ধনের তথ্য অনুযায়ী, তার জন্ম ২৪ জানুয়ারি ২০১৩ সালে। সে হিসাবে বর্তমানে তার বয়স ১৩ বছর।
এদিকে হেলিকপ্টারে করে বর আসার খবর পেয়ে বিষয়টি জানতে ঘটনাস্থলে যায় উপজেলা প্রশাসন। এ সময় কনের বয়স যাচাই করতে জন্মনিবন্ধন দেখতে চাইলে পরিবারের পক্ষ থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) থেকে ইস্যু করা আরেকটি জন্মনিবন্ধন দেখানো হয়।
ওই জন্মনিবন্ধনে মেঘলা আক্তারের জন্মতারিখ ২৪ আগস্ট ২০০৮ উল্লেখ রয়েছে। নথিটি ২৫ জুন ২০২৬ তারিখে ইস্যু করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে বিদ্যালয়ের নথিতে থাকা জন্মতারিখের সঙ্গে ওই জন্মনিবন্ধনের তথ্যে প্রায় পাঁচ বছরের ব্যবধান রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কাছে কনের বয়স প্রাপ্তবয়স্ক প্রমাণ করতেই ভিন্ন জন্মনিবন্ধন ব্যবহার করা হয়েছে। তবে কোন জন্মনিবন্ধনটি সঠিক এবং কীভাবে দ্বিতীয় জন্মনিবন্ধনটি ইস্যু হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে কনের বাবা মোশারফ হোসেন বলেন, “আমার মেয়ের বয়স ১৮ বছরের ওপরে।”
ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল-মামুন বলেন, “আমি শুনেছি মেয়ের পরিবার ভুয়া জন্মনিবন্ধন দেখিয়ে বাল্যবিবাহ দিয়েছে। তবে আমরা ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই বর-কনে হেলিকপ্টারে করে শরীয়তপুরের উদ্দেশে চলে যায়। জন্মনিবন্ধনের বিষয়ে সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









