ফরিদপুরে দলবদ্ধ ধর্ষণসহ দুটি পৃথক ধর্ষণ মামলায় তিন যুবক কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও প্রত্যেক আসামীকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ১ বছরে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
রবিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক শামিমা পারভিন এই রায় দেয়।
রায়ের সময় দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলার দুই আসামী উপস্থিত থাকলেও অপর ধর্ষণ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী অনুপস্থিত ছিল। পলাতক দন্ডপ্রাপ্ত আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিসহ উপস্থিত অন্য আসামীদের পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।
সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা হলো, জেলার সদর উপজেলার তাম্বুলখানা এলাকার সিরাজ মন্ডলের ছেলে রাসেল মন্ডল(২৫) ও দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় চরদুর্গাপুর হাজীডাঙ্গী গ্রামের মৃত জয়নাল মোল্যার ছেলে সুমন মোল্যা এবং আহম্মদ বেপারীর ছেলে উসমান মোল্যা।
আদালত ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৬ নভেম্বর বিকেলে জেলার সদর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের ভাটপাড়া গ্রামের বিল্লাল ফকির ও তার স্ত্রী মেয়ে কে বাড়িতে রেখে অসুস্থ ভগ্নিপতি কে হাসপাতালে দেখতে যায়। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে প্রতিবেশি আসামী রাসেল মন্ডল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তার মেয়েকে একা পেয়ে ঘরের মধ্যে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। সেসময় মেয়েটি ডাক চিৎকার দিলে লোকজন এগিয়ে এলে ধর্ষক পালিয়ে যায়।
রাতে মেয়েটি বাবা-মা বাড়িতে ফিরে এলে ঘটনা শুনে পরের দিন সকালে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় ঐ যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করে।
অন্য একটি ঘটনার মামলায় এজাহার সুত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের আনন্দ বাজার এলাকার রেজাউল শেখের মেয়ে তার প্রেমিকের সাথে দেখা করতে রাজবাড়ী জেলার দৌলতদিয়া ঘাটে যায়। সেসময় মোবাইল ফোনে পরিচয় হওয়া প্রেমিক দীর্ঘ সময়েও না আসায় মেয়েটির চাচাতো ভাই রিয়াজ কে জানালে। সেখান থেকে রাতে চাচাতো ভাই রিয়াজ মোটরসাইকেল করে মেয়েটিকে বাড়িতে আনার কথা বলে তার দুই বন্ধু সুমন ও উসমানের ভাড়াটিয়া বাসায় নিয়ে যায়। আসামী সুমন সকালে দুই বন্ধুকে কৌশলে বাইরে পাঠিয়ে দিয়ে একা ঘরে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। আবার মেয়েটির চাচাতো ভাইকে দুরে পাঠিয়ে দিয়ে কিছুক্ষন পরে উসমান বাসায় ফিরে মেয়েটিকে দলবদ্ধ ভাবে ধর্ষণ করে। পরে মেয়েটিকে বাড়ির কাছে পৌছে পালিয়ে যায় তারা। এই ঘটনায় মেয়েটির মা জমেলা বেগম বাদী হয়ে তিন জনকে আসামী করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করে।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্র পক্ষের কৌশলী এ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভুইয়া রতন জানান, প্রেমিকের সাথে দেখা করতে গিয়ে প্রেমিক না আসায় চাচাতো ভায়ের দুই বন্ধুর কাছে ধর্ষনের স্বীকার হয় নবম শ্রেনী পড়ুয়া মাদ্রাসার ছাত্রী। এই ঘটনায় সুমন ও উসমান নামের দুই যুবককে দলবদ্ধ ধর্ষণের অপরাদে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও চাচাতো ভায়ের অপরাধ প্রমান না হওয়ায় তাকে খালাস দেয় আদালত।
অপর দিকে পরিবারের লোকজন অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে দেখতে যাওয়ায় একা বাড়ীতে এক কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় আসামী রাসেল মন্ডল কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে বিচারক। এছাড়া উভয় আদেশে প্রত্যেক আসামীকে ১ লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয় আদালত।
দ্রুত সময়ের মধ্যে দুটি ধর্ষণ মামলার বিচার হওয়ায় সমাজ থেকে এধরণের অপরাধ নির্মূল হবে আশা করে রাষ্ট্র পক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









