স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান এর মন্ত্রী হিসেবে নিজ জেলা নরসিংদীর পলাশের চরনগরদীতে নিজ বাড়ির পাশে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা সাবেক খাদ্যমন্ত্রী মরহুম আবদুল মোমেন খান ও মা খোরশেদা বানুর কবর জিয়ারত করেন। কবর জিয়ারত কালে তাদের রুহের ও বিদেহী আত্নার মাগফেরাত কামনা করেন।
পাশাপাশি শহীদ জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার তাদের রুহের আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া প্রার্থনা করা হয় এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য কামনা করেন। দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য দোয়া কামনা করেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে নরসিংদীর পলাশ উপজেলা মাল্টিপারপাস অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে ইপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে ইসলামের আদর্শ প্রতিষ্ঠা করছেন তিনি কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দরিদ্রদের সহায়তার যে নতুন ধ্যানধারণা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে চালু করেছেন, তা রাসুল (সা.)-এর শিক্ষা থেকে এসেছে।’
বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের কথা তুলে ধরে ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, ‘একটি সরকারের জন্য ৬ মাস কোনো দীর্ঘ সময় নয়। এই স্বল্পতম ৬ মাসের ভেতরে তারেক রহমান নির্বাচনী যেসব ওয়াদা করেছিলেন, সেই ওয়াদাগুলো একটি একটি করে পূরণ করেছেন। আপনারা দেখেছেন, পলাশে দীর্ঘ ১৭ বছর জনগণের কল্যাণে যা করা হয়নি, আমরা আজকে মাত্র ৬ মাসের ব্যবধানে তার চেয়ে অনেক বেশি কাজ করতে পেরেছি।
ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, এ দেশের দুস্থ-দরিদ্র মানুষ থেকে শুরু করে এ দেশের রাস্তাঘাট, মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়ন করেছি। কেন করেছি? এটা তারেক রহমানের রাষ্ট্রীয় নীতি। এর ফলশ্রুতিতে আমরা এই কাজগুলো করতে সক্ষম হয়েছি।’
প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, ‘আজকে আমাদের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে যে কাজগুলো করে যাচ্ছেন, সেগুলোর মাধ্যমে তিনি ইসলামের সেই আদর্শকে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত করছেন! কেন জানেন? এই যে কৃষক কার্ড বলছি, ফ্যামিলি কার্ড বলছি, যার মাধ্যমে এ দেশের দরিদ্র মানুষের কিছু সহায়তা দেওয়ার জন্য এই যে নতুন কিছু ধ্যানধারণার সৃষ্টি এবং প্রচলন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান করেছেন বাংলাদেশে, সেটা কিন্তু রাসুলে করিমের শিক্ষা থেকে এসেছে। কাজেই আমরা আজকে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সঠিক পথে হাঁটছি।
মন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৯১ সালে বেগম জিয়ার নেতৃত্বে জেলার পাঁচটি আসনেই বিএনপি বিজয়ী হয়েছিল এবং বর্তমানে আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেই গৌরব পুনরুদ্ধার হয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশব্যাপী মেধাবীদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করেছিলেন, যেখানে পলাশের কৃতি সন্তান ড. আব্দুল মোমেন খান স্থান পেয়েছিলেন এবং সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত হয়ে নরসিংদীকে গৌরবান্বিত করেছিলেন।
নরসিংদীর পলাশ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুস সাত্তারের সভাপতিত্বে এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন ভূঁইয়া মিলটন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ড. আব্দুল মঈন খানের সহধর্মিণী ও দি মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটির চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট রোখসানা খন্দকার, নরসিংদী জেলা পরিষদ প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার, বিএনপি নেতা ফেরদৌস আহমেদ খোকন, নরসিংদী আন্ত:জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি সারোয়ার হোসেন মৃধা এবং নরসিংদী বাজার বণিক সমিতির সভাপতি বাবুল সরকার,জেলা যুবদলের সাধারন সম্পাদক
হাসানুজ্জামান সরকার প্রমুখ।
দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান কেয়া, নরসিংদী জেলা পরিষদ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উপসচিব আব্দুল ওয়াহাব রাশেদ,জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক, নরসিংদী এলজিইডি এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফুলকাম বাদশা,নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসমা জাহান সরকার,পলাশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইশতিয়াক,নরসিংদী জনস্বাস্থ্য বিভাগ নির্বাহী প্রকৌশলী মো: রেজওয়ান হোসেন,নরসিংদী এলজিইডি এর সিনিয়র প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম শওকত, পলাশ পৌর সভাপতি আলম মোল্লা,জেলা যুবদল সহসভাপতি শাহান শাহ শানু, জেলা তাঁতীদলের সভাপতি হুমায়ুন কবির কামাল ও সেক্রেটারী আলাউদ্দিন প্রধান,চিনিশপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান তুহিন,পলাশ বিএনপি নেতা ভিপি মনির,উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আমজাদ হোসেন ভুইয়া আলতাফ, জেলা তাঁতীদলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বশির আহম্মদ মোল্লা।
এছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি,রাজনৈতিক নেতাকর্মী,আলেম-ওলামা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









