পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে সম্প্রতি ঘোষিত উপজেলা যুবদলের নতুন কমিটি বাতিলের জোর দাবি জানিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল দশটার দিকে উপজেলা কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে মিছিলটি উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে সমাবেশে রূপ নেয়।
সমাবেশে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা হাতে ঝাড়ু নিয়ে অংশ নেন এবং ‘পকেট কমিটি মানব না’ স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে তোলেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সুজন, বাবুল মুন্সি ও শাহীন ফরাজি প্রমুখ।
বক্তব্যে সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সুজন এই কমিটিকে ‘পকেট কমিটি’ হিসেবে উল্লেখ করে তা সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পূর্বে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যাদের কোনো উপস্থিতি বা ভূমিকা ছিল না, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে ভুল বুঝিয়ে তারা বর্তমান কমিটিতে স্থান বাগিয়ে নিয়েছে। এমনকি যারা অতীতে কখনো যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না এবং কেবল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তারাও জায়গা পেয়েছেন এই কমিটিতে।
নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দলের দুঃসময়ে যারা রাজপথে থেকে পুলিশি হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন এবং নির্যাতন সহ্য করেছেন, কমিটিতে তাদের ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অবিলম্বে এই বিতর্কিত কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে সবার মতামতের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য কমিটি গঠনের জোর দাবি জানান তারা।
বিক্ষোভ ও সমাবেশে উপজেলা যুবদল ছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। রাজনীতিতে ঝাড়ু মিছিলের প্রচলন নতুন না হলেও মির্জাগঞ্জের এই ঘটনার প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ আলাদা বলে মন্তব্য করেন অংশগ্রহণকারীরা। তাদের ভাষ্যমতে, দলকে ভালোবেসেই তারা ঝাড়ু হাতে রাস্তায় নেমেছেন এবং দলের ভেতরের সব অনিয়ম ও আবর্জনা পরিষ্কার করতে চান।
উল্লেখ্য, এর আগে ২৬ আগস্ট যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির দপ্তর সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভুঁইয়ার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মির্জাগঞ্জ উপজেলা যুবদলের ৭ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









