ঢাকার ধামরাইয়ে চুরির সন্দেহে শঙ্কর চন্দ্র মন্ডল (২৮) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার মামলার প্রধান আসামি মো. ওয়াজেদ আলী ওরফে ওয়াজেদ হাজীকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৪ ও র্যাব-১৫-এর যৌথ অভিযানিক দল।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে র্যাব-৪।
বার্তা সূত্রে জানা যায়, বুধবার দিবাগত রাতে কক্সবাজার সদর থানাধীন কলাতলী ডলফিন মোড়সংলগ্ন ময়না রেস্টুরেন্টের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ওয়াজেদ আলী ধামরাই সদর ইউনিয়নের শরীফবাগ এলাকার ডাউরী বেপারীর ছেলে। তিনি একটি অটোরাইস মিলে ধান-চালের ব্যবসা করেন। র্যাব জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর তিনি দীর্ঘদিন কক্সবাজার এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, ৮ আগস্ট ওয়াজেদ হাজীর রাইস মিল থেকে একটি মোটর ও যন্ত্রাংশ চুরি হয়। এ ঘটনায় শঙ্কর চন্দ্র মন্ডল জড়িত—এমন সন্দেহে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নেন মিলের মালিক ওয়াজেদ আলী। শঙ্করের সঙ্গে তার বাবা ও স্থানীয় এক ব্যক্তি সেখানে যান।
অভিযোগ রয়েছে, ওয়াজেদ আলী শঙ্করের বাবা ও ওই ব্যক্তিকে চা খাওয়ার কথা বলে বাইরে পাঠিয়ে দেন। এরপর মিলের ভেতরে শঙ্করকে রশি দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয়। চুরির বিষয়ে শঙ্কর কোনো স্বীকারোক্তি না দেওয়ায় একপর্যায়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
মারধরে গুরুতর আহত শঙ্করকে পরিবারের সদস্যরা ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে আর্থিক সংকটের কারণে তাকে ঢাকায় না নিয়ে পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে নিয়ে আসেন। আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৫ আগস্ট সকালে শঙ্করের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় শঙ্করের বাবা বাদী হয়ে ধামরাই থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার ছায়াতদন্তের অংশ হিসেবে র্যাব তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওয়াজেদ আলীর অবস্থান শনাক্ত করে। পরে র্যাব-৪ ও র্যাব-১৫-এর যৌথ দল কক্সবাজারের কলাতলী ডলফিন মোড়সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
র্যাব-৪-এর দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওয়াজেদ আলী ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









