একদিকে নদী, অন্যদিকে ভাঙনের আতঙ্ক। বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভূতেরদিয়া গ্রামের মানুষের দিন কাটছে এমন উৎকণ্ঠায়। সুগন্ধা নদীর অব্যাহত ভাঙনে ইতোমধ্যে গ্রামের বহু বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এবার ভাঙনের মুখে পড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক, সেতু, মসজিদ-মাদ্রাসা ও বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত নদীতীর সংরক্ষণ ও স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে নদীভাঙনকবলিত এলাকায় মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে কেদারপুর সোনার বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ, আছিয়া ওয়াজেদ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ১০৩ নম্বর দক্ষিণ ভূতেরদিয়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-শিক্ষক ছাড়াও ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যসহ কয়েক শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্ষা শুরুর পর থেকেই সুগন্ধা নদীতে স্রোতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় দক্ষিণ ভূতেরদিয়ায় ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। নদীর পেটে চলে গেছে গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা ও বহু মানুষের ঘরবাড়ি। যারা এখনো বসতভিটা আঁকড়ে আছেন, তারাও প্রতিদিন আতঙ্কে দিন পার করছেন, পরবর্তী ভাঙনের শিকার হবে কার ঘর, তা যেন অনিশ্চিত।
ভাঙন শুধু বসতভিটাতেই থেমে নেই। নদীর ক্রমাগত আগ্রাসনে এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মুখে। এসব স্থাপনা হারালে স্থানীয় মানুষের শিক্ষা, যোগাযোগ ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে কেদারপুর সোনার বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোসা. মারিয়া আক্তার ইতি বলেন, ‘‘নদীভাঙনে তাদের ঘরবাড়ি ইতোমধ্যে নদীতে চলে গেছে। এখন বিদ্যালয়টিও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।’’ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে স্কুলটি রক্ষার দাবি জানান তিনি।
বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. মঞ্জুর রহমান টুটুল বিশ্বাস বলেন, ‘‘প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে সুগন্ধার প্রবল স্রোতে এ এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছরই মানুষ বসতভিটা হারাচ্ছেন। এবার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনবসতি রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’’
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নদীভাঙনের গতি এখনই থামানো না গেলে অল্প সময়ের মধ্যে একের পর এক বসতভিটা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ভবিষ্যতে মানুষের শেষ আশ্রয়, কবরস্থানও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
তারা অবিলম্বে ভাঙনকবলিত এলাকায় নদীর তীর সংরক্ষণ কাজ শুরু করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নদীভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানান। শুধু সাময়িক জিওব্যাগ ফেলা বা মৌসুমি উদ্যোগ নয়, নদীর গতিপথ ও তীরের স্থায়িত্ব বিবেচনায় নিয়ে স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান স্থানীয়রা।
মানববন্ধনে সমাজসেবক মো. হাসানুজ্জামান খোকন, কেদারপুর সোনার বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. শাহজাহান, আছিয়া ওয়াজেদ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ফোরকান হোসেন, শিক্ষক মো. কামাল হোসেন ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. রোকোনুজ্জামানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল বলেন, ‘‘বর্ষা মৌসুমে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও স্থাপনা রক্ষায় পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









