নাটোরের গুরুদাসপুরে জনরোষে শিকার ২ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহারের পর পুলিশের দায়ের করা মামলায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দিবাগতরাতে উপজেলার ওয়াবদা বাজার ও শ্যামপুর গ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে। শনিবার আদালতের মাধ্যমে তাদের নাটোর জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের প্রেস রিলিজের তথ্যমতে, গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন মো. সবুজ প্রামানিক (২৯) মো. জাহের আলী প্রামানিক (৪৫) মো. হাসান আলী প্রামানিক (৫৭) মো. রবিউল করিম (৪০) মো. আশিক আহম্মেদ (২২) মো. নাইম আলী (১৯) মো. রেজাউল করিম (২৮) মো. আল-আমিন (২৭) মো. কামরুল ইসলাম (২১) তারা সকলেই ঘটনার সাথে জড়িত ও এজাহার নামীয় আসামী। সকলেই ওয়াপদা বাজার ও শ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা।
গুরুদাসপুর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান প্রেস রিলিজের বরাত দিয়ে জানান, মঙ্গলবার উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে লাম ইসলাম (৯) ও ফারহান (৮) নন্দকুঁজা নদীতে ডুবে মারা যায়।
দুই শিশুর জানাজার জন্য ওয়াপদাবাজর সংলগ্ন একটি ঈদগাহ মাঠে আনা হয়। উপপরিদশক (এসআই) আবুল বাসার বিধিমোতাবেক ভিকটিমের পরিবারের উপস্থিতিতে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন করেন। লাশের দাফনও সম্পন্ন হয়।
পরে লিখিতভাবে হস্তান্তরের জন্য অভিভাবকদের জানান।এসয় কিছু জনতা দলবদ্ধভাবে এসআই আবুল বাসার ও পুলিশ সদস্য রাকিবকে সরকারিকাজে বাধা প্রদান করেন।
অবস্থা বেগতিক দেখে তারা ওয়াপদাবাজারের একটি দোকানে আশ্রয় নেয়। সেখানে অবরুদ্ধ করে অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করতে থাকেন। উত্তেজনার একপর্যাযে দুই পুলিশ সদস্যকে হত্যার উদ্দেশ্যে লাঠি কাঠের বাটাম লোহার রডে এবং কিলঘুষি দিয়ে তাদের আঘাত করেন। পরে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে দুই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এর আগে জনরোষের শিকার দুই পুলিশ সদস্যকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে পাঠানো হয়।
এঘটনায় উপপরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল হক বাদী বুধবার গভীররাতে ২০ জনের নাম উল্লেখসহ ওয়াপদাবাজার, শ্যামপুরসহ আশপাশের গ্রামের আরো ২০০ থেকে ২৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেন।
শনিবার স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে গনহারে মামলা দায়ের করার পর থেকে গ্রামগুলোতে পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে। নারী ও শিশুরা বাড়িতে অবস্থান করছেন। পরিবারগুলোতে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। শুক্রবার রাতে ৯ ব্যক্তি গ্রেপ্তারের পর থেকে পরিস্থিতি আরো থমথমে হয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের নারী সদস্যরা দাবী করে বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা দিন মজুর শ্রেনির মানুষ। এঘটনার সাথে তারা কেউ-ই জড়িত নেই। হয়রানিমুলকভাবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গুরুদাসপুর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, সুষ্ঠু তদন্ত ও সুনিদিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই সকলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পযায়ক্রমে অন্যরাও গ্রেপ্তার হবেন। অযথা কাউকে হয়রানি করা হবেনা। এজন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সকলের সহযোগীতা প্রত্যাশা করেন তিনি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









