যশোর সদর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের চাঁনপাড়া গ্রামে পৈতৃক ভিটা থেকে একটি পরিবারকে উচ্ছেদের চেষ্টা, জমি দখল, ভয়ভীতি ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতা বি.এম. এলাম হোসেন রানাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তারা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে যশোর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন চাঁনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সুজন হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় তার বাবা জাফর আলীসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে সুজন হোসেন বলেন, তাদের পৈতৃক সম্পত্তির মধ্যে বসতবাড়ির সঙ্গে থাকা প্রায় দুই শতক জমি নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। পারিবারিক ও আইনগতভাবে জমি ভাগবাটোয়ারা করে সংশ্লিষ্টদের প্রাপ্য সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়ার পরও বিরোধের অবসান হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
সুজনের অভিযোগ, একপর্যায়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের তার জমি মাত্র ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রির কাগজে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়। এ কাজে ফতেপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি বি.এম. এলাম হোসেন রানা সহযোগিতা করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
পরবর্তীতে জমির ক্রেতা আবুল কালাম আজাদকে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে সেখানে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা করা হয়। এ সময় বি.এম. এলাম হোসেন রানা এতে বাধা দেন বলে অভিযোগ করেন সুজন।
তিনি আরও বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি পরে আদালত পর্যন্ত গড়ায়। বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে ১৪৪ ধারায় মামলা এবং আদালত থেকে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা নেওয়া হয়েছে। এরপরও কয়েকজন সেখানে প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা করেন এবং তাদের ভয়ভীতি দেখানো ও মারপিট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সুজন হোসেন বলেন, ‘আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। বিষয়টি আইনগতভাবে সমাধানের চেষ্টা করছি। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালীদের কারণে আমরা হয়রানি ও ভয়ভীতির মধ্যে রয়েছি। পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়েও আমরা শঙ্কিত।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ফতেপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি বি.এম. এলাম হোসেন রানা বলেন, বিষয়টি নিয়ে থানায় মীমাংসা হয়েছে। এরপরও তাদের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
রানা বলেন, ‘কিছুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। সেখানে পাঁচ-ছয়শ মন্তব্য পড়েছে। এতে আমার মানসম্মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তারা আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করছে, সরেজমিনে এসে তদন্ত করলে প্রকৃত বিষয়টি পরিষ্কার হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে সুজন হোসেনের বাবা জাফর আলী, মর্জিনা বেগম, রেজাউল ইসলাম, শিরিনা বেগম ও সেলিম রেজাসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, জমির প্রকৃত মালিকানা ও দখল নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









