ময়মনসিংহের ভালুকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওপর ও আশপাশে দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য ফেলার কারণে চরম পরিবেশ দূষণ এবং জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। মহাসড়কের ফুটপাত ঢেকে থাকা ময়লার স্তূপ থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধ ও উচ্ছিষ্টে অতিষ্ঠ পথচারী, স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি জমিতে জমা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার বাড়ায় পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র ডেঙ্গু আতঙ্ক।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার সীমান্তবর্তী নাসিরগ্লাস এলাকা থেকে ভালুকা ব্রিজ পর্যন্ত মহাসড়কের বেশ কয়েকটি ফাঁকা স্থানে বর্জ্যের স্তূপ জমে রয়েছে। বিশেষ করে হবিরবাড়ী, মাস্টারবাড়ী, আমতলী মায়ের মসজিদের পাশ, সিডস্টোর বাজারের উত্তর পাশ এবং পৌর এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ড প্রশিকার মোড়ে ময়লা সরাসরি মহাসড়কের ওপর চলে এসেছে। ভোর, দুপুর কিংবা রাতের আঁধারে বাসাবাড়ি ও বাজারের বর্জ্য এনে এখানে ফেলা হয়।
মহাসড়কে চলাচলের ভয়াবহ পরিস্থিতি তুলে ধরে স্থানীয় স্কুল শিক্ষার্থী সিনথিয়া আফরিন শিফা বলেন, “রাস্তায় ময়লা রাখার কারণে ফুটপাত বন্ধ হয়ে গেছে। এদিক দিয়ে গেলে গাড়ি প্রায়ই চাপ দেয়, আমরা প্রতিনিয়ত জীবন ঝুঁকিতে আছি।” দুর্গন্ধ ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা আসমা আক্তার বলেন, “দেখুন কত স্পিডে গাড়ি আসে! এটা মহাসড়ক, ময়লা রাখার কারণে এখান দিয়ে যাওয়া যায় না। কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই আমরা চাই রাস্তাটা যেন ফ্রি করে দেওয়া হয়।” কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ক্ষোভ প্রকাশ করে পথচারী আরমান আহমেদ বলেন, “কাকে কী বলবেন, কেউ কথা রাখে না। ময়লা কে সরাবে বলে লাভ নাই, পৌর প্রশাসককে অনেক বলেও কাজ হয় না। আর যারা ময়লা ফেলে তারা অফিসার, কোনো কথা শোনে না।”
দুর্গন্ধের কারণে অনেককে নাক চেপে চলাচল করতে হয়, এমনকি কাক-পশুপাখির মাধ্যমে ময়লা ছড়ানোর কারণে প্রায়ই পথচারীদের জামাকাপড় নষ্ট হচ্ছে। আশপাশের শতাধিক পরিবার ও নিকটস্থ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কয়েকশ শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে এই ভোগান্তির শিকার হলেও প্রতিকার মিলছে না।
এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকবাল হোসাইন জানান, মহাসড়ক থেকে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং খুব দ্রুতই ময়লা সরানো হবে।
ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, “মহাসড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বর্জ্য ফেলে জনভোগান্তি তৈরি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় দ্রুত এই ময়লা অপসারণ করে নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা ও পৌর প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশ প্রদান করা হচ্ছে।” ডাম্পিংয়ের জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে, খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









