মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের পূর্ব ট্রাট্টিউলি হেবাইরতল জামে মসজিদের নিলামের টাকা আত্মসাৎ এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য ও কয়েকজন মুসল্লির বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা’ দায়েরের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজ শেষে মসজিদ পরিচালনা কমিটি ও মুসল্লিদের উদ্যোগে মসজিদ প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মসজিদের মুসল্লি ছাড়াও স্থানীয় এলাকাবাসী অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ২১ আগস্ট শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মসজিদের পূর্বের নিলামের টাকা ও কয়েক মাসের বেতন বাবদ পাওনা টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে মবশ্বির আলী (৪১) ও উসমান মিয়া (৩৩)-এর সঙ্গে মসজিদ কমিটি ও মুসল্লিদের কথা-কাটাকাটি হয়। তাদের কাছে নিলাম বাবদ ২২ হাজার টাকা এবং বেতন বাবদ প্রায় ৩ হাজার ৯০০ টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, পাওনা টাকা চাইলে ওই দুই ব্যক্তি তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে মসজিদ প্রাঙ্গণে হট্টগোল ও দুর্ব্যবহার করেন। এ সময় পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তারা ধারালো দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা।
পরবর্তীতে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য ও কয়েকজন মুসল্লিসহ মোট আটজনের বিরুদ্ধে মৌলভীবাজারের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে মানববন্ধনে জানানো হয়। বক্তারা মামলাটিকে ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ দাবি করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, মবশ্বির আলী ও উসমান আলী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক, গরু চুরি, ইভটিজিংসহ বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। কেউ প্রতিবাদ করলে তারা প্রভাব খাটিয়ে ভয়ভীতি দেখান বলেও অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
বক্তারা বলেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এ ঘটনায় মসজিদ পরিচালনা কমিটি ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কুলাউড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তারা।
কর্মধা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হেলাল আহমদ বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে কোন অভিযোগ আসে নাই বা আমি এ বিষয় নিয়ে অবগত নয়।অভিযোগ পেলে আইনি ভাবে সমাধানের চেষ্টা করব।
কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, এ ঘটনায় আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি যেহেতু বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে, তাই আদালতের রায় বা নির্দেশনা পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









